বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (সংক্ষেপে ছাত্রলীগ) , যেটিকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিষ্ঠার পর এটি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও পরে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সংগঠনটি। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ছাত্রলীগের সিংহভাগ নেতা রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন, যার প্রধান ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। শেখ মুজিবের হত্যা ও তার সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যায় সংগঠনটির অস্ত্বিত্ব। তবে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আবার জড়ো হয় ছাত্রলীগ। ১৯৯০-এর দশকের পর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনটিকে তাদের অঘোষিত লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সহিংসতা, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ছাত্রলীগের হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত এবং ১,৫০০ জন গুরুতর আহত হন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো ১২৯ জনে, শুধু ২০১৮ সালেই ৩১ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গুলশান হামলার পর জঙ্গি তল্লাশিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাথেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজ শাখার ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি চক্র চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের হামলার পর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে "বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার" দাবি জানিয়ে চেইঞ্জ.অর্গে একটি আবেদন শুরু হয়।[। ২০১৯ সালে এই সংগঠনকে "লজ্জার ব্র্যান্ড" হিসেবে অভিহিত করে অনলাইন সংবাদ পোর্টাল ঢাকা ট্রিবিউন। ২৬ মে ২০২২ সালে ভিন্নমতাবলম্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর উপর ধারাবাহিক হামলার পর আটটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ’সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দেয়। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে চলা আন্দোলনে নিপীড়ন চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে, অস্ত্র হাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পেটানো, আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে ছাত্র হত্যা ও প্রকাশ্যে নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্চিত করার ঘটনায় মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।