অতিথি প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:৩৬, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৮, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন ও অলস প্রেমীরা বলছেন, উন্নয়ন যদি অলস মানুষের মনের তৃপ্তির কারণ না হয় তাহলে সেই উন্নয়নের স্বার্থকতা নেই। সরকারের উন্নয়ন আরো অপরিকল্পিত হলে রাজধানী ঢাকাকে আরো বেশি উপভোগ করতেন অলস মানুষেরা।
রাজধানী ঢাকা শহর ঘুরে দেখা গেছে, মুষলধারে বৃষ্টির পর প্রতিটি সড়কে হাঁটু থেকে বুক সমান পানি জমে থৈ থৈ করছে। কোথাও কোথাও গাড়ি অর্ধেক ডুবে গেছে। কোথাও আবার দেখা গেছে পুরো গাড়ি সড়কে সৃষ্ট সুইমিং পুলের পানির নিচে। এছাড়া, সুইমিং পুলে রিকশা চলাচল প্রায় ব্যাহত হচ্ছে। রিকশা চলার পরিবর্তে চালক রিকশাকে টেনে নিচ্ছেন, যাত্রী পেছন দিক থেকে রিকশাকে ধাক্কা দিচ্ছেন। এছাড়া, সুইমিংপুলে ভারী যানবাহন চলাচল করায় সমুদ্রের মতো সেখানে ঢেউ সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলাদেশ অলস কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বলাই মিয়া বলেন, পলাতক সরকারের ১৭ বছরের উন্নয়নের সুফল বেশ কয়েক বছর ধরে মানুষ নিজ চোখে দেখতে পারছে। চারদিকে উন্নয়নের ফলে রাজধানীতে হাজার হাজার সুইমিংপুল সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সংগঠনের লোকেরা সড়কে পানি থাকার কারণে অফিস-আদালতে যেতে পারছেন না। তারা পরিবারের সঙ্গে বেশ মধুর সময় কাটাচ্ছেন। আমরা আমাদের অলস সময় পার করার সময় নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছি। এই সুযোগে আমাদের প্রিয় ঘুম কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। যারা টানা ১৮ ঘুমাতে পারবে তাদের আমরা পুরষ্কৃত করবো।
ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ আমান বলেন, প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না। বৃষ্টির কারণে সড়কগুলোতে পানিতে ভরাট হওয়ায় স্কুলে যাবো না। এখন শুধু বন্ধুদের নিয়ে সড়কে জমে থাকা পানিতে সাঁতার কাটবো। এ রকম সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। স্কুলে গিয়ে পড়ার চাপ নেওয়ার বদলে বন্ধুদের সঙ্গে সুইমিং পুলে আনন্দ-ফুর্তি করাই ভালো।
অলস কমিটির ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজন মিয়া বলেন, ঢাকার সড়কগুলো সুইমিং পুলে পরিণত হওয়ায় আমরা শিশু-কিশোরদের আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। সড়কে পানির উচ্চতা বাড়ানোর জন্য যদি আরো কিছু উন্নয়ন করা যায় তবে আমরা আরো খুশি হবো। আমাদের সহযোদ্ধারা কাজ না করেই ঘরে বসে থাকতে পারবে। সারাদিন টেলিভিশন ও মোবাইলে মনোযোগ দিতে পারবে। অফিস বা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে বসের ঝাড়ি খেতে হবে না।
সমুদ্র বিলাস প্রিয় হাসান্নুল বারী বলেন, কষ্ট করে, টাকা খরচ করে কক্সবাজারে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে যাওয়া লাগে। কিন্তু পলাতক সরকারের ১৭ বছরের উন্নয়নে আমরা কক্সবাজারের সমুদ্রের ঢেউয়ের স্বাদ রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে দেখতে পাচ্ছি। যখনই ভারী যানবাহন সড়কে চলে তখনই সেই সমুদ্রের ঢেউয়ের তৃ্প্তি আমরা নেই। কম খরচে সমুদ্রবিলাস দেখার সুযোগ করায় পলাতক সরকারকে ধন্যবাদ।
সাঁতারু মিজান বলেন, ঢাকা শহরে পুকুরের সংখ্যা কমে গেছে। বেসরকারি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার খরচ অনেক বেশি। তাই, বিনা পয়সায় সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার মজাই আলাদা। আমরা গ্রুপ গ্রুপ করে সাঁতার কেটে শারীরিক কসরত দেখাব। আমরা ভাবছি, এই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার প্রতিযোগিতা করা যায়কিনা। শিগগিরই, বাংলাদেশ সাঁতার কাটা এসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে ওয়ার্ডভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ জীবাণু এসোসিয়েশনের সভাপতি ভাইরাস খন্দকার বলেন, বৃষ্টির কারণে ঢাকা নগরীতে জলাবদ্ধতা আমাদের জন্য আর্শিবাদ। এজন্য পলাতক সরকারকে আমাদের অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তার উপর অনেক অনেক সন্তুষ্ট। আজ ঢাকার সড়কগুলোতে পানি জমার কারণে আমরা বিস্তার করতে পারছি। মানুষ ইদানিং জীবাণুনাশক সাবান, শ্যাম্পুসহ নানা প্রসাধনী ব্যবহার করে গাড়ি করে যাতায়াত করে। আমাদের শক্তিশালী জীবাণুরা তাদের নাগাল পায় না। সড়কে পানি জমার ফলে ভদ্রলোকদের সহজে পেয়ে যায় আমাদের বড় বড় জীবাণুরা। এতে, আমাদের সক্রিয়তা বাড়ে। আমরা সক্রিয় হলে ডাক্তারদের ব্যবসার সুযোগ করে দেই।
নোট: ব্যঙ্গ প্রতিবেদন শুধু বিনোদনের জন্য ও কাল্পনিক। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এখানে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি মানা হয় না এবং হিউম্যান ভয়েসের নিজস্ব কোনো ব্যঙ্গ প্রতিবেদন নেই। অতিথি প্রতিবেদক যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ব্যঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন। ব্যঙ্গ প্রতিবেদন প্রতিবেদককে সম্মানির মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে হিউম্যান ভয়েস।