ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৪৪তম হত্যা দিবস আজ

এইচভি প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ: ০১:২৩, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৬, ৫ জুন ২০২৬

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৪৪তম হত্যা দিবস আজ

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৪৪তম হত্যা দিবস শুক্রবার (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিদ্রোহী সেনা অফিসার নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেন। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বেশ কয়েকজন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে প্রথমে রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও জিয়াউর রহমান সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এতে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের ব্যারাকগুলোতে থাকা বাংলাদেশি সেনা অফিসার ও সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহ পান। এছাড়া তার ইংরেজি ভাষণ শিক্ষিত সমাজ ও বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের বার্তা সহজে পৌঁছায়। যখন তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তখন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর পদের একজন অফিসার‌ ছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যার রহস্য

জিয়াউর রহমান হত্যার পেছনে অনেকগুলো কারণ উঠে এসেছে। তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো হত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। তবে তাঁর জাতীয়বাদী মনোভাব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিবেশি দেশ ভারতের বিষেদগারে পরিণত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি সার্ক নামক আঞ্চলিক জোট গঠন করায় ভারতের মতো বড় রাষ্ট্রের বিরাগভাজন হন। তবে তার হত্যার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ পন্থী লোকদেরও দায়ী করা হয়। আবার তৎকালীন জাসদকেও হত্যার পেছনের নায়ক হিসেবে দেখা হয়। জিয়া হত্যার পেছনে যেসব অফিসারদের নাম রয়েছে তন্মোধ্যে কর্নেল উসমানের নাম এসেছে। যিনি জিয়াউর রহমানের ফাঁসির আদেশে মৃত্যুবরণ করা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহেরের ভাগনে। এছাড়া মেজর জেনারেল মঞ্জুর এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দায়ী ব্যক্তি ছিলেন। জেনারেল মঞ্জু  এক সময়  জিয়াউর রহমানের আস্থাভাজন ছিলেন। পরবর্তীতে জেনারেল মঞ্জু ও উসমানসহ বেশিভাগ ঘাতকরা বিশেষ অভিযানে নিহত হন। আর বাকিদের সামরিক আদালতে সাজা দেওয়া হয়।

জিয়াউর রহমানকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল যা একটি লাশকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। বিপথগামী সেনারা তার লাশ চট্টগ্রামের রাউজানের গভীর জঙ্গলে কবর দেয়। জঙ্গলে তখন অনেক মানুষকে হত্যার পর লাশ কবরস্থ করা হতো। সেখান থেকে একটি কবরের লাশ উত্তোলন করে আনা হয়। তবে সেটা জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হত্যার ঘটনার তিনদিন পর লাশের অংশবিশেষ এনে জানাজা করা হয়। এতে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ নামাজে জানাজায় অংশ নেন। পরে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় অস্থিতিশীল পরিবেশে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্থাপন করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গণভোটের আয়োজন করেন। পরে তিনি রাজনৈতিক দল হিসেবে জাগদল প্রতিষ্ঠা করেন। আবার জাগদলকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে রূপান্তর করেন। জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অনেক ব্যক্তিকে তার দলে অন্তুভুর্ক্তির অভিযোগ রয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দলগুলো থেকে আসা নেতাদের পুনর্বাসন করেন তার দলে। এতে  দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা পায়। জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। তবে দলীয় কোন্দল সামলাতে হিমশিম খান  তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়া। তিনি যখন হত্যার শিকার হন চট্টগ্রামে তখন বিএনপির  দুটি গ্রুপের বিবাদ নিরসন করতেই সেখানে যান। 

জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন পদক্ষেপ

জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর মানুষ হলেও রাজনীতিতে সহজেই জায়গা করে নেন। এমনকি মানুষের হৃদয় জয় করেন দ্রুত। জিয়াউর রহমান খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব, শিল্প উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। খাল কাটা কর্মসূচি ছিল তার অন্যতম জনপ্রিয় কর্মসূচি। এছাড়া সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করে তিনি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাছাড়া , আঞ্চলিক জোট গঠন ও মুসলিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি অন্যন্য উচ্চতায় নিজেকে আসীন করেন। এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান।

বিএনপির কর্মসূচি

জিয়াউর রহমানকে বিএনপি ও তার সমমনা দল শহীদ হিসেবে আখ্যা দেন। তাই তারা তার হত্যা দিবসকে শাহাদাত বার্ষিকী হিসেবে পালন করেন। এ বছর টানা ৮ দিনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে। 

এর মধ্যে রয়েছে - আলোচনা সভা, পোস্টার ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, জিয়ার কবরে ফুল দেওয়া ও ফাতেহা পাঠ, দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি। গত ২৬ মে থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ২ জুন পর্যন্ত। কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা করেছে বিএনপি। এতে জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশিষ্টজন বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩০মে) সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন। নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন