এইচভি প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:৩৫, ১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩২, ১ জুলাই ২০২৬
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হাসনাত আব্দুল্লাহের কার্টুন- ছবি: কালের কণ্ঠ
‘‘মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ’’ শিরোনামের প্রতিবেদনে কোনো প্রতিবেদকের নাম লেখা হয়নি, ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ উল্লেখ করা হয়েছে। আজ দৈনিক কালের কণ্ঠের সেই প্রতিবেদন অনুচ্ছেদভিত্তিক ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করবে হিউম্যান ভয়েস।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদেনের অনুচ্ছেদ-১
‘‘সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন! এই তরুণ নেতা দেহমনে বেশ বলিষ্ঠ! আর তাই কণ্ঠেও বেশ ‘উত্তাপ’ ছড়ান। যেখানে যান, সেখানেই তিনি নিজের শরীরের ‘গরম’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন! শরীর আর কণ্ঠের জোরে সব জয় করতে চান! উনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন যে ঠাণ্ডা মাথার কাজ কম; মাথা গরম তো শরীরও গরম। আর গরম শরীরে সব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়; নিজে গরম থাকবেন, কিন্তু অন্যকে ‘ঠাণ্ডা’ করতে পারবেন! তারুণ্যের এই গরম শরীর নিয়ে তিনি যখন জুলাইয়ের আন্দোলনে মাঠ কাঁপান, তখন সবাই তাঁকে খুব বিশ্বাস করে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। তরুণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর অন্য সঙ্গীদের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ভেবে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিল। আন্দোলন হলো, জয় এলো। তাদের ‘মনমতো’ অন্তর্বর্তী সরকার হলো। আর রাতারাতি বদলে যেতে থাকল সবকিছু। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভিন্নমত, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ, ছাত্রদের অধিকার ইত্যাদি যত দাবিদাওয়া সামনে রেখে আন্দোলন হয়েছিল; সব মেবালুম ভুলে গিয়ে বিরোধী মত দমনের কঠিন মিশন নিয়ে চলতে শুরু করলেন। তাঁর শরীর আর পেশি যে কত গরম, তা বুঝতে শুরু করল দেশবাসী। ঠাণ্ডা মাথার আর কোনো কাজই নেই! হাসনাত মানেই যেন হুমকি-ধমকি!
হিউম্যান-ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-১
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অন্ততর্ভুক্ত দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে সেখানে সফর করেছিলেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ ও তাদের প্রধান সংগঠন আওয়ামী লীগ কথিত `মব‘ করে হাসনাতকে ডিম দিয়ে আক্রমণ করেছিল। পরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও সেখানকার জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা হাসনাতকে ছাত্রলীগের মব থেকে সরিয়ে নেন। যুক্তরাজ্যের কোনো গণমাধ্যমই মবের ঘটনার সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেনি। তবে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের যে অভিযোগ উঠে সেটি রানা্র নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষা’কারে পরিষ্কার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের আহমেদ। তাকে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ছিল অতিরঞ্চিত অভিযোগ। হাসনাত বা কেউ তাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে চিনতেন না বা চিনে আঘাত করেননি বলে জুবায়ের রানার নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। ট্রাফিক আইন না মানা সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। সেখানে কোনো মবের ইস্যু ছিল না। উক্ত অনুচ্ছেদে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে টাট্টা-মশকরা করা হয়েছে। এছাড়া হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিরোধী দল দমনের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ক্ষমতাসীন দলের এমপি নয়, তার অবস্থান বিরোধী দলে। তিনি বিরোধী কাউকে দমন নয়, তিনি গণহত্যায় অভিযুক্ত ফ্যাস্টিট আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের দমনে মৌখিক শক্তি প্রদর্শন করছেন। কালের কণ্ঠ বিরোধীদের দমন বলতে আওয়ামী লীগকে দমনের কথা হয়তো বর্ননা করতে পারেন। তবে, প্রতিবেদনে তা পরিষ্কার করেনি সংবাদমাধ্যমটি। হাসনাত আব্দুল্লাহের সকল হুমকি-ধামকি আওয়মী লীগ ও তাদের প্রভু ভারতের বিরুদ্ধে। উক্ত অনুচ্ছেদে `হয়তো‘ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতায় অনুমান নির্ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-২
কি গণমাধ্যম, কি পুলিশ-সেনাবাহিনী,কি সুধী-শিল্পী-বাউল-মুক্তিযোদ্ধা—সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার নতুন সংস্কৃতির বিস্তার ঘটতে থাকল শিগগিরই। কিছু হলেই একে-তাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুংকার। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সেনাবাহিনীকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পিছপা হননি এই তরুণ। অথচ যখনই সংকটে পড়েছেন কিংবা মানুষের রোষানলে পড়েছেন, তখনই তাঁকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।
হিউমম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-২
হাসনাত আব্দুল্লাহের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, পুলিশ, সেনাবাহিনী , শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের অভিযোগ করছে কালের কণ্ঠ। তবে, বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমে গুপ্ত অবস্থায় ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যারা সাংবাদিক পরিচয়ে আওয়ামী লীগের সফট পাওয়ার হিসেবে কাজ করেন বা করছেন। বিশেষ করে, জুলাই গণহত্যার সময় যারা শেখ হাসিনার পক্ষালম্বন ও তার গণহত্যাকে বৈধতা দিতেন সেসব গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।পুলিশের হাতে গণহত্যা, লাশ পুড়ানোর ইস্যুতে পুলিশ বাহিনীর আওয়ামীকরণের প্রতিবাদ করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এছাড়া, শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা সেনাবাহিনীর কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা (যারা শেখ হাসিনার নিয়োগপ্রাপ্ত), তাদের মুখোশ খুলেছেন হাসনাত। প্রথমে শেখ হাসিনাকে ছাড়া সংস্কার করা আওয়ামী লীগ ফিরিয়ে আনা, অবশেষে হাসিনাকে ফেরত আনার ব্যাপারে সজাগ ছিলেন হাসনাত, যা তার নানা বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। হাসনাত শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সেবাদাসদের তাচ্ছিল্য করেছেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বা অন্য কাউকে নয়। হাসনাত আওয়ামী পন্থী গণহত্যার সমর্থক জেনারেলদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠ তুলেছেন, গোটা বাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, যা তার ফেসবুকের পোস্টের লেখায় দেখা গেছে। এজন্য দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী তার বিপদে এগিয়ে এসেছিল।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৩
কাউকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা মনে হলেই ভিন্ন চোহারা ধারণ করেন হাসনাত! চোখ-মুখ বাঁকিয়ে গগনবিদারী হুংকার যাকে বলে! যাকে-তাকে দেওয়া তাঁর হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতির নমুনা দেখে সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করল যে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেওয়া হাসনাতরা আসলে মানুষের কোনো অধিকার নয়, বরং নিজেদের আখের গোছাতে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে, সব ভুলে এখন তারা ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শত সহস্র বছরের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করতেই এতসব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। হাসনাতের মধ্যে আগামী দিনের নেতৃত্বের যে সম্ভাবনা ও গুণাবলি ছিল, তার অপব্যবহার করতে সময় লাগেনি। যখনই একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে চলে আসে, তখন থেকেই হাসনাত নিজের মতকেই সব মতের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে শুরু করেন। ‘নিজের মতই সেরা মত’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হাসনাত নিজের নেতৃত্বগুণকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ‘মব সন্ত্রাস’কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান!
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৩
এই অনুচ্ছেদে সরাসরি হাসনাত আব্দুল্লাহকে বর্ণবাদী ইঙ্গিত করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ। রাজনৈতিক বিপ্লবী দাবিদার হাসনাতের হুঙ্কার শুধু হাসিনা ও অন্যায় লালনকারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দেখেছে হিউম্যান ভয়েস। আর ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে মানুষকে নামানোর যে দাবি কালের কণ্ঠ করেছে, তা শেখ হাসিনা ও গণহত্যায় জড়িত যারা আছে তারাই একই কথা বলছে। অথচ ফ্যাসিস্টের জগদল পাথর দেশের মানুষের বুক থেকে নেমেছে তা দেখেনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বসুন্ধরা গ্রুপের দৈনিক কালের কন্ঠ। ক্ষমতার অপব্যবহার,নিজের মতের উপর প্রধান্য তথ্যকে অতিরঞ্চিত করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ। তাদের প্রতিবেদনে কোনো ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি। তাকে মব সন্ত্রাসের যে দায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়ে দিয়েছে সেই একই সুরে প্রতিবেদন করেছে সংবাদমাধ্যমটি।যেখানে দেশে আরো জটিল অনেক আন্দোলনের পর ছোট ছোট দাবি ধাওয়া হয়েছিল তখন সেগুলোকে কেউ মব বা মব সন্ত্রাস বলেনি। আওয়ামী লীগের মব সন্ত্রাস টার্ম ব্যবহার করেছে কালের কণ্ঠ।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৪
গ্রামের একজন রাজমিস্ত্রির সন্তান হয়ে নিজেকে ‘প্রলেতারিয়েত’ শ্রেণির অংশ ভাবা হাসনাত রাতারাতি ‘বুর্জোয়া’ মানসিকতা রপ্ত করতে থাকেন! গাড়ি আর টাকার নেশাও পেয়ে বসে তাঁকে। কেমনে কেমনে যেন সব চলে আসে হাতের নাগালে। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের পলকে তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়। অথচ প্রশ্নও তোলা যায় না। যিনি প্রশ্ন করবেন তখনই চোখ-রাঙানি! কার ঘাড়ে কত মাথা যে হাসনাতের মব সন্ত্রাসের ভীতির মধ্যে এসব নিয়ে প্রশ্ন করে? কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের ইশারায় হাসনাত আর আরেক এনসিপি নেতা আসিফ মিলেঝিলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় জেলা পরিষদ প্রশাসক মুস্তাক মিয়া মুখ ফসকে বলে ফেলার পর হাসনাতের চোখ-রাঙানিতে সব ঠাণ্ডা।
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৪
কালের কণ্ঠের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজমিস্ত্রির ছেলে দেশের একজন আইনপ্রণেতা হয়েছে, যা সহ্য করতে পারছে না বসুন্ধরা গ্রুপ। একজন এমপির যে পরিমাণ জীবনযাপন করা প্রয়োজন হাসনাতকে তাই ব্যবহার করতে দেখেছে হিউম্যান ভয়েস। সংসদ সদস্য হয়ে একজন রাজমিন্ত্রির ছেলের মতো কেন জীবন চালান না তাই প্রতিবেদনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাসনাতের বিরুদ্ধে যে ২৫ কোটি টাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ছিল একজন প্রশাসকের মুখের বক্তব্য। কুমিল্লা জেলার অনেক উপজেলায় একই পরিমাণ ও কাছাকাছি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা হাসনাতের মাধ্যমে নয়, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ তা পেয়েছে। পরে তিনি তা দেশবাসীকে অনলাইনে প্রকাশ্যে আনেন, যা যাচাই করেছে হিউম্যান ভয়েস। তাতে তার কোনো কাগজে-কলমে সংশ্লিষ্টতা পায়নি। এমনকি দেশের কোনো গণমাধ্যমও প্রমাণ করতে পারেনি।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৫
বিরোধী দলকে শায়েস্তা করার প্রসঙ্গে একবার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুইটা হোন্ডা, ছয়জন গুণ্ডা, বিরোধী দল ঠাণ্ডা।’ অনেকটা ওই রকম আর কি! দেশে মব সন্ত্রাসকে সামনে থেকে উচ্চে তুলে ধরার কারিগর হাসনাত আবদুল্লাহ সময়ের সঙ্গে সংসদ সদস্যও হলেন। কিন্তু মবকে এখনো ‘না’ বলতে পারেননি। দেশজুড়ে মব দিয়ে সব হাসিল করে শিখে গেছেন এটিই সময়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যা ব্যবহার করে যাকে প্রয়োজন ঠাণ্ডা করে রাখা যাবে! কিছু হলেই সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজ হাসিল করে নেওয়ার অভিনব কৌশল তিনি ভালোই রপ্ত করে নেন অন্তর্বর্তীর দুই বছরে। এটি এখন সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর ভুলে যেতে পারতেন! কিন্তু না,সেই পথে যাননি তিনি। সুযোগ পেলে পার্লামেন্টকেও ‘শাহবাগ’ বানিয়ে ফেলেন, যদিও তাঁর আরেক সহকর্মীকে এরই মধ্যে পার্লামেন্টকে শাহবাগ না বানানোর বিষয়টি স্পিকারের আসন থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ- ৫
বিরোধীদলকে দমন করতে শেখ হাসিনার যে তত্ত্ব নিয়ে প্রায় সময় বলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সেই তত্ত্ব দিয়ে হাসনাতকে মব সৃষ্টিকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে কালের কণ্ঠ। কোথায়, কোন অফিসে মব করে হাসনাত কাজ আদায় করেছেন তার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুযায়ী,হাসনাতরা মব করে শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছে। তাই সকল যৌক্তিক আন্দোলনকে মব হিসেবে উপস্থাপন করছে আওয়ামী লীগ ও তার সকল অঙ্গ। সংসদে উচ্চস্বরে কথা বললে শাহবাগ হয়ে মর্মে তথ্য দিয়েছে কালের কণ্ঠ। তবে সাবেক সংসদ সদস্য পাপিয়া, সংসদে অন্যান্য সদস্যদের অতীতে গান পরিবেশন, জাতীয় নেতাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের হুঙ্কারমূলক বক্তব্যের মতো অনেক ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে কোনোদিন প্রতিবেদন ছাপায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৬
জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী গত দুই বছরের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব সংস্কৃতি’ বা উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরব থাকার কথা থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগ এবং বিলাসবহুল জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় একটি জাতীয় দৈনিককে হুমকির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকেও অনেকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যদিও তিনি আন্দোলনের সময় ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডে সেই ন্যায়বিচারের ধারণার পরিবর্তে মব সংস্কৃতি বা গণপিটুনিসদৃশ রাজনৈতিক আচরণের ছাপ পাওয়া গেছে বলে সমালোচকদের অভিমত।
হিউম্যানর ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৬
শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পর তার কাছ থেকে সুবিধাভোগী সকল মিডিয়ার প্রতি বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসনাত, যা হিউম্যান ভয়েস নিশ্চিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘাপটি মেরে থাকা সাংবাদিক নামের আওয়ামী শক্তির বিরুদ্ধে জনমত ও তাদের বহিষ্কার দাবি করেছেন হাসনাত। যারা (সাংবাদিক গ্রুপ-শীর্ষরা পলাতক ও কারারন্তীণ) জুলাইয়ের গণহত্যার সমর্থন করতেন সেই সব সন্ত্রাসীপন্থী সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির ব্যাপারে তিনি জোর দাবি জানিয়েছে বলে জানতে পেরেছে হিউম্যান ভয়েস। এছাড়া, আওয়ামী লীগ মদদপুষ্ট মিডিয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিশেষ করে বসুন্ধুরা গ্রুপের সব মিডিয়ার প্রতি তার ক্ষোভ প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৭
হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি ও তাঁর অনুসারীরা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারী বা সমালোচনাকারীদের ওপর সরাসরি হামলা না করে বরং তাঁদের সামাজিকভাবে ‘ট্যাগিং’ করে কোণঠাসা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বা তাঁর সমর্থকরা যাঁদের পছন্দ করেন না, তাঁদের তাত্ক্ষণিকভাবে আওয়ামী দোসর, ভারতের দালাল বা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই ধরনের আখ্যা দেওয়ার ফলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।
হিউম্যান-ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৭
আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারীসহ যারা দলটিকে মৌন সমর্থন করেন তাদের ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে শুধু হাসনাত নয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেন বলে জেনেছে হিউম্যান ভয়েস। হাসনাতের বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিএনপি,জামায়াতসহ কাউকে ট্যাগিং দেওয়ার ঘটনা কখনো দেখা যায়নি বা কোনো নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমে খবরও প্রকাশ হয়নি। প্রতিবেদনের এই অনুচ্ছেদে নাম ছাড়া বিশ্লেষকদের কথা বলা হয়েছে,যা হলুদ সাংবাদিকতার অন্যতম উদাহরণ। কোনো বিশ্লেষকের নাম উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। এটা মনগড়া বিশ্লেষণ মাত্র যা প্রতিবেদক লিখেছেন। বাংলাদেশে হাসিনার বিরুদ্ধে যারা আছেন, তারা ছাড়া সবাইকে ফ্যাসিবাদী শক্তি মনে করেন হাসনাত, যা তার বক্তব্যে বারবার ফুটে উঠেছে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৮
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কথা বলার পরিবর্তে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক তাঁর বিলাসী জীবনধারা বা দুর্নীতির খতিয়ান নিয়ে প্রতিবেদন করলে সেখানে সরাসরি আইনি পথে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক হেনস্তার শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এটি পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের একটি মব পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
হিউম্যান-ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৮
অপসাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছে কালের কণ্ঠ।কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকতার ভাষায় কারো বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার পর যখন সমালোচনা শুরু হয় তখনই তা সরিয়ে নেয় ব্যবসায়ীদের বর্গা দেওয়া সংবাদমাধ্যমগুলো। সেটাকেও মব হিসেবে চিত্রায়িত করেছে কালের কণ্ঠ।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-৯
কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলোকে অনেকেই ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখেন। তিনি যখন জনসভায় বলেন যে কারো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জায়গা থাকবে না, তখন তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী বা স্থানীয় ক্যাডাররা সেই বক্তব্যকে পুঁজি করে ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। সমালোচকদের মতে,তিনি সরাসরি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার না করলেও তাঁর বক্তৃতার উত্তাপ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মব সন্ত্রাসে উসকানি দেয়। মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া। হাসনাত আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ডে অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে তাত্ক্ষণিক বিচার বা শাস্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বা প্রশাসনিক এলাকায় গিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা হেনস্তা করার প্রবণতা মব কালচারকে উসকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
হিউম্যান-ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-৯
বিএনপির চাঁদাবাজ নেতাদের বরাবরই তুলোধুনো করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য সবসময় ক্ষুরধার। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত সকল রাজনৈতিক দলকে হাসনাত তার বক্তব্যে ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখেছে হিউম্যানভয়েস। এখানেও হাসনাতকে মব সন্ত্রাসের উসকানি দাতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছাড়াই।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-১০
হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার অভিযোগ হলো,একদিকে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘টাকা খাওয়া’ গোষ্ঠী হিসেবে গালিগালাজ করছেন এবং মব উসকে দিচ্ছেন,অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের মতো বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে,এই দ্বিমুখী নীতি প্রমাণ করে যে মব সন্ত্রাস তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।হাসনাত আবদুল্লাহর মতো সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা শুধু ব্যক্তিগত আচরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে,এই প্রবণতা ডালপালা মেলার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং পরোক্ষ প্রশ্রয় একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। মব সন্ত্রাস যখনই কোনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়েছে,সরকার সেগুলোকে কঠোর হাতে দমন করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর মতো নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর যখন মাঠ পর্যায়ে সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে,তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-১০
চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে তার কোনো প্রমাণ হাজির বা ক্লু দিতে পারেনি কালের কণ্ঠ। আওয়ামী লীগের বহু আগে বহিষ্কৃত নেতারা যদি দেখা করেন কখনও সেটাও পরিষ্কার করে উল্লেখ করেনি সংবাদমাধ্যমটি। এই অনুচ্ছেদে সমালোচকদের নাম উল্লেখ করেনি কালের কণ্ঠ। সুতরাং আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারী এবং কালের কণ্ঠই সমালোচক হিসেবে ধরা হচ্ছে। সাংবাদিকতায় সমালোচকের নাম উল্লেখ করা নীতির অংশ।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ-১১
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন,হাসনাত আবদুল্লাহর এই আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। প্রথমত,এটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন থমকে যায়। তৃতীয়ত সমন্বয়কদের প্রতি আস্থা কমে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ, যারা জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছিল,তারা এখন এই মব সংস্কৃতির চর্চায় চরম হতাশ ও বিরক্ত। গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে যখন বারবার হাসনাত আবদুল্লাহর বিতর্কিত জীবনযাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মব কালচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তখন সরকার সেটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক কৌশল’, যেখানে মব ভায়োলেন্সকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমানো হচ্ছে। সরকারের এই প্রশ্রয়ই আজ হাসনাত আবদুল্লাহকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে,যেখানে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা,প্রতিষ্ঠান,এমনকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও উসকানিমূলক মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন।
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ-১১
প্রতিবেদনের এই অংশে আবারও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের উপর দিয়ে মতামত জাহির করেছেন কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি। কোনো বিশ্লেষকদের নাম উল্লেখ করেননি। কলাগাছের নাম হলেও বিশ্লেষক হিসেবে উল্লেখ করতে হয়, সেই ইথিকস মানেনি কালের কণ্ঠ।হাসনাত আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দল, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা অসাধুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনুচ্ছেদ- ১২
মোটাদাগে বলতে গেলে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো,তিনি আন্দোলনের সময় যে স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বলতেন,আজ তিনি নিজেই সেই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং মব কালচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ অনুচ্ছেদ -১২
প্রতিবেদনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে মবের জনক বানাতে প্রমাণ ছাড়া যত অপতথ্য দিতে হয়, তাই উল্লেখ করেছেন বিশেষ প্রতিনিধি। শেখ হাসিনাকে তাড়াতে যে আন্দোলন শুরু করেছিল হাসনাতরা, তা আজ আওয়ামী লীগ ও তার সুবিধাভোগীদের কাছে মব হয়েছে।
হাসনাতের বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরোধ!
হিউম্যান ভয়েস বিভিন্ন সময় সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি বিরাট বোঝাপড়া ছিল। এছাড়া, বেশিরভাগ আওয়ামী পন্থী যারা মুক্তিযুদ্ধের (সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত) পক্ষের বলে দাবি করেন, তারাই বসুন্ধরা গ্রুপের অধীনে সংবাদমাধ্যমগুলোতে কাজ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বসুন্ধরা গ্রুপের সব মিডিয়াই হাসিনার পক্ষে ছিল। এখনো তারা তারই পক্ষে রয়েছে। হাসনাত বিভিন্ন বক্তব্যে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও বসুন্ধুরা গ্রুপের সমালোচনা করেন। সম্প্রতি, হাসনাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদেও বসুন্ধরা গ্রুপের অধীনে থাকা সব সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে বসুন্ধুরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে ও এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের নাম উল্লেখ করে সমালোচনা করেন হাসনাত।
নির্দেশিকা: এই সংবাদ বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে লাল রঙের লেখা কালের কণ্ঠ পত্রিকার হুবহু আর কালো রঙের লেখা হিউম্যান ভয়েসের বিশ্লেষণ। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের অনলাইন লিঙ্ক সংযুক্ত করা হলো- https://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2026/06/30/1704673?__cf_chl_f_tk=uu.VrQlGJHLno9RkQi7UEE3VgD8SKZVD4YnzFL9Cg8g-1782898359-1.0.1.1-XEhnkrPlLs6YcvLv6Sw3HfgxRT2n4zBsMsnddIuD7gE
হিউম্যান ভয়েসের বক্তব্য: সংবাদ বিশ্লেষণ করা হয়, কাউকে নিরপরাধ বা অপরাধ বানানোর জন্য নয়। সত্য সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠাকেই দায়িত্ব মনে করে হিউম্যান ভয়েস।