এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৩০, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংগৃহীত
তিনি বলেছেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্প খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। এসব খাতকে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন মাঠে সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসে থাকা যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তিরা সিলেটের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে পর্যটন শিল্পসহ স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
চা শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেটের চা-বাগান শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে পরিচিত। এ কারণে সিলেটের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সিলেটের হাওরাঞ্চলে মৎস্য চাষের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের হাওরগুলোতে মাছ চাষের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানকার খনিজ সম্পদ কাজে লাগিয়ে বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তোলারও সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবাসীদের বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা, পর্যটন ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগানোর জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক সিলেট সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার কয়েক দিন আগে সিলেটে এসেছিলেন। তিনি এখান থেকে চা নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ পাকিস্তান সিলেট থেকে চা আমদানি করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা দরকার।
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা শুধু সিলেটের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ যেসব বিষয় রয়েছে, অন্তত সেসব বিষয়ে আমাদের একমত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। বাংলাদেশের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।