ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

ইরান যুদ্ধে ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:০০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির নিরপেক্ষ বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির হিসাবে, যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।

সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি ধারণা করছে, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দ্রুতগতিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মার্কিন সামরিক মজুতের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামও বেড়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই বড় ঘাটতির মুখে থাকা ফেডারেল বাজেটেও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এর আগে ২১ জুলাই সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও প্রায় একই পরিমাণ ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন।

পাঁচ বছর লাগতে পারে মজুত পূরণে

সিবিও জানিয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ের বড় অংশই হয়েছে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ও অস্ত্র ব্যবহারের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটির প্রাক্কলন।

রয়টার্সের আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নিখুঁত-লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুত ব্যবহার করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রের মজুত ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সিবিওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বিভাগ কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি।

পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ইরানের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলাকে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য, ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মী বা স্বার্থের ক্ষতি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও মার্কিন গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট যখন এবং যেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

কংগ্রেস সদস্যের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে এই অনুসন্ধান চালানো হয়।

এক বিবৃতিতে বয়েল বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যরা নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সিবিওর প্রতিবেদনে যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে।

সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সামরিক ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতিতে সম্ভাব্য ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসও সেই অর্থনৈতিক প্রভাবেরই একটি ইঙ্গিত।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন