আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৩৭, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত অঞ্চলের কয়েকটি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। সামুদ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সাগরে মাছ ধরাও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন জেলেরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ায় জাকার্তার সোকরনো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এর আগে স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে অন্তত ২০৯টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সূচি ব্যাহত হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। সুমাত্রা অঞ্চল ও বানতেন প্রদেশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং জাভা অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছাইয়ের স্তর দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র বার্তন প্যানজাইতান বলেন, আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে সুরক্ষা পেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক ও চশমা ব্যবহার, বাইরে কাজকর্ম কমিয়ে আনা এবং খাবার ও পানির উৎস ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বায়ুমণ্ডলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা চোখে তীব্র জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন। এ কারণে কয়েকটি স্কুলে পাঠদান বাতিল করতে হয়েছে। অন্যদিকে, সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠা এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই। এরপরও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালের সুনামির স্মৃতি
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাওয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হন।
‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামের অর্থ ‘ক্রাকাতাওয়ের সন্তান’। ১৮৮৩ সালে এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের পর ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সুনামি সৃষ্টি হয়। এতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স