এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬:৩৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংগৃহীত
রোববার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তির সুফল মাঠপর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সরিষার উৎপাদন বেড়েছে
বৈঠকে ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন আরও বেড়ে হয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টন।
পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
উদ্ভাবিত হয়েছে ১,০৯০ জাত
কৃষি গবেষণার অগ্রগতির চিত্রও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়।
কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও বৈঠকে জানানো হয়।
বাড়ছে সৌর সেচের ব্যবহার
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় কমার পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
৪৩ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। দেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকা কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।