ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯:৪৪, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০০:১০, ৩ আগস্ট ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও এক বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দেশটির ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও নিজ এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ট্র্যাজেডি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কোমানি (সাবেক কুইন্সটাউন) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সমো এলাকার ওই দোকানটিতে মোট ৭ জন বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে তারা দোকানের ভেতরেই অবস্থিত আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ পুরো দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুনের শিখায় দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ৬ জন প্রাণ হারান।

গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে দ্রুত কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

নিহতদের মধ্যে ক্রোকেরচর গ্রামের তিনজন হলেন ফাহিম (২৯), আপন আহমেদ (২৩) ও নুর মোহাম্মদ (৫৫)। অন্য নিহত তিনজন হলেন আলীরটেকের তৈলখিরার চরের ফয়সাল (২৬), ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার শাহিন (৩০) এবং মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়ার রাজ্জাক (৫৫)।

স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ

নিহতদের গ্রামের বাড়িতে এখন কেবলই কান্নার রোল। নিস্পাপ তরুণ আপন আহমেদের বাবা আলী হোসেন বিলাপ করে বলছিলেন, ‘অর্থের অভাবে ছেলেকে বিদেশে কেন পাঠালাম? আল্লাহ আমাকে নিয়ে যেতে, কেন পোলারে নিলে!’ ৪ বছর আগে ভাগ্য বদলাতে ছেলেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়েছিলেন এই মুদি দোকানি।

অন্যদিকে, নিহত নুর মোহাম্মদের ছেলে সিয়াম জানান, মৃত্যুর আগের রাতেই তার বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। দেড় মাসের পারমিট পাওয়ার আনন্দের কথা জানিয়ে বাবা বলেছিলেন, আর কিছু টাকা আয় করেই দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।

কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন বা কর্মরত দোকানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্রিটস শহরে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন