এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৫৭, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৪, ১৬ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম- ফাইল ছবি
শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নেন এবং মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দেন বিচারক।
বাদীর আইনজীবী আবদুল ওহাব এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে শুনানিতে শুধু অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাবই অংশ নেননি, তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ আইনজীবী। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস।
মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়।
এছাড়া, ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।
বাদী তানভীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। ফলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজীবী আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনি তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এদিকে, মামলার বিষয়ে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক বা অন্য আসামিদের বক্তব্য নিতে চেয়েছে সংবাদমাধ্যগুলো। তবে তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি।
এর আগে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম তার পৈতৃক বাসভবন ‘মীরবাড়ী’র নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে । এছাড়া, তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরইমধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এই গেজেট রোববার প্রকাশিত হলে নতুন তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। অন্যদিকে নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নে নামকরণ করা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সোমবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে প্রতিমন্ত্রীকে ‘বগুড়ার নতুন জমিদার’ বলে মন্তব্য করেন। মনিরা শারমিন তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়ার নতুন জমিদার। ইউনিয়ন পরিষদের নাম পরিবর্তন করে বংশীয় ও সন্তানদের নামে নামকরণ করছেন। নতুন ইউনিয়নের নাম মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত। আহ্! ক্ষমতা!’
এইচভি/কেএম