এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৫১, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার পান্থপথ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লিজার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার ওরফে রব রাজের মেয়ে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
লিজার মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‘সরফরাজ’ নামে হাসপাতালে ভর্তি
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোটবেলা থেকেই লিজার পোশাক-পরিচ্ছদ ও চুলের ধরনে ছেলেদের মতো সাজের প্রতি আগ্রহ ছিল। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং কখনো কখনো দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতেন।
জেনিফার ভাষ্য, তাঁরা একে অপরের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোন চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। স্তন অস্ত্রোপচারের জন্য লিজার মা-বাবা ও বোন অর্থ দেন। ওই অর্থে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে ‘সরফরাজ’ নামে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেনিফার দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি ওই স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন এবং তাঁর স্বাক্ষরে অস্ত্রোপচার হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন।
‘জেনিফাকে বিয়ে করবে শুনেছিলাম’
লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘লিজা অস্ত্রোপচার করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমনটা ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’
লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাঁকে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। পুরুষের সঙ্গে সংসার করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল না।
তিনি বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে লিজার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
মৃত্যু সনদে নাম ‘সরফরাজ’, লিঙ্গ পুরুষ
এদিকে হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ ‘পুরুষ’ উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃত্যু সনদে থাকা হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ কেউই ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
অস্ত্রোপচারের পর লিজার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী তা এখনো জানা যায়নি। চিকিৎসায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।