ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

তিন মাস ধরে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল আটক

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:৫৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১১, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন মাস ধরে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল আটক

সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা-প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে পুলিশ।

অভিযুক্ত আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্টি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ‘মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থায় থেকে পড়াশোনা করত।

পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর গত তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন শিক্ষক আল আমিন। একপর্যায়ে শিশুটির পেটে ব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।

পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, বাড়িতে থাকার সময় একদিন সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। পরে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি তখনও পরিবারের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

পরে শিশুটিকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে তার মা তাকে আবার মাদ্রাসায় রেখে যান। পরিবারের দাবি, ওই ১১ দিনের মধ্যে আট দিনই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানান এবং স্বজনদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এরপর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ও অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগীর নানা আজিজুর রহমান বলেন, এত ছোট একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন তাকে ভয় দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সে মাকে মাদ্রাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানায় শিশুটি।

শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ছেলে অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিতে গেলে শিক্ষক আল আমিন তাকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা করানো হয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’

পেটব্যথার কারণে শিশুটিকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন। সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন