এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৩৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪১, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংগৃহীত
এ নিয়ে চলতি বছর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ১৩ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। পরে আগস্টে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে তার মিয়া নামে এক বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহতরা হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আসাদুল হক এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম (৩৮)। গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের চান্দেরহাট বিওপির বিপরীতে ভারতের বিএসএফের চকশিবানন্দ ও বসুদেবপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার গভীর রাতে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ হন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। পরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মোস্তাকিমেরও মৃত্যু হয়। নিহত দুজনের মরদেহ বর্তমানে ভারতের ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির দাবি, নিহত আসাদুল হক চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেন সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরে সীমান্তে নিহত অন্তত ১৩
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ২১টি ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজন গুলিতে এবং তিনজন নির্যাতনের পর মারা যান।
এরপর ৯ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই সময় কয়েকজন কথিত চোরাকারবারি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয় এবং গুলিতে তারা মিয়া নিহত হন।
সেপ্টেম্বরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ঘটনায় আসাদুল হক ও মোস্তাকিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের হিসাবের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় মোট সংখ্যা নিয়ে কিছুটা তারতম্য থাকতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৩৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
সীমান্তে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নতুন করে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের বিষয়টি সামনে এনেছে।