আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৩৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবির মহার্জন। তারা ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধার করার পর কবির মহার্জনকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশাও আছে।’ তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। শ্রমিকদের উদ্ধারে সরকার আশা হারায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উদ্ধার অভিযানে অস্ট্রেলিয়া থেকে পরামর্শ দিচ্ছেন ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর্নল্ড ডিক্স। তিনি বলেন, সপ্তাহজুড়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির পর উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’র মুখোমুখি হয়েছেন।
আর্নল্ড ডিক্স জানান, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কাজ করা উদ্ধারকারী দল হঠাৎ ভেতর থেকে ক্ষীণ একটি সাড়া পায়। টানেলের ভেতর থেকে কেউ একজন ‘হুঞ্চা’নেপালি ভাষায় যার অর্থ ‘ঠিক আছে’বলে সাড়া দেন।
এরপর উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা শ্রমিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করছি।’
উদ্ধারকারী দল দেখতে পায়, বন্যার পানির সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষে টানেলের পথ পুরোপুরি আটকে রয়েছে। এরপর শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে তারা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত খনন করে এগিয়ে যায়। যেকোনো মুহূর্তে সাফল্য আসতে পারে—এমন আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। ক্ষীণ সাড়া পাওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উদ্ধারকারীরা দুই শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় টানেল থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন।
দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্য শ্রমিকদের নিয়েও নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উদ্ধারকারীরা। আর্নল্ড ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে তিনি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে হিমালয় অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি সড়ক টানেল ধসে ৪১ ভারতীয় শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ ও জটিল উদ্ধার অভিযানে তাঁদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই অভিযানেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন আর্নল্ড ডিক্স।
এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালের অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের টানেলে প্রায় ১০০ শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে দেশটির সরকার। তাঁদের উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চলছে।
ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া কবির মহার্জনের আত্মীয় লক্ষ্মী নাইনি বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা। আমি খুব খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বেঁচে থাকার খবর শুনেছি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’
দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা শুধু তাঁদের স্বজনদের মধ্যেই নয়, পুরো উদ্ধারকারী দলের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পর টানেলের ভেতর থেকে পাওয়া সেই ক্ষীণ সাড়া এখন অন্য আটকে পড়া শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।