আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:১৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে বলেন, অন্যায় ও মানুষের দুর্দশার ঘটনায় শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মিলিব্যান্ড বলেন, ‘চুপচাপ দাঁড়িয়ে মানুষের আরও দুর্দশা এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ধ্বংস হতে দেখাটা আমরা আজ থেকে বাদ দিলাম।’
যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান সরকার দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইসরায়েলের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মিলিব্যান্ড আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’। লন্ডনের দাবি, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য হলেও বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে এমন পণ্যের বড় অংশই কৃষিপণ্য ও ওয়াইন, যা ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের তুলনায় সামান্য।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ
নতুন নিষেধাজ্ঞার পেছনে অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পশ্চিম তীরে জেরুজালেমের কাছে ‘ই-ওয়ান’ বসতি প্রকল্প। ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তাবিত ভূখণ্ডের ওপর এ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিলিব্যান্ডের মতে, ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে নিয়ে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে একই দিনে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল অবশ্য এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।