আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরকার ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর হ্যারি ও মেগান আর রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য নন। ফলে যুক্তরাজ্যে তাঁদের ফিরে আসার পরও এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
অর্থাৎ দেশে ফিরলেও রাজপরিবারের অন্য কর্মরত সদস্যদের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সরকারি দায়িত্ব কিংবা আনুষ্ঠানিক রাজকীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাঁদের থাকছে না।
তবে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকলেও হ্যারি ও মেগানের বর্তমান রাজকীয় খেতাব ও মর্যাদা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তাঁদের দাতব্য কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্যিক উদ্যোগও ব্যক্তিগত হিসেবেই পরিচালিত হবে।
রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কর্মরত রাজপরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয় দায়িত্বের বাইরে হ্যারি ও মেগানের আর্থিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে সম্মান করা হবে। তাঁদের বর্তমান অবস্থান অনেকটা বাণিজ্যিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত সাধারণ নাগরিকদের মতো।
২০২০ সালে দায়িত্ব ছাড়েন হ্যারি-মেগান
প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে ২০২০ সালে। ওই বছর তাঁরা রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
এরপর যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান হ্যারি ও মেগান। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করে তাঁরা বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক নানা উদ্যোগে যুক্ত হন।
রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাঁদের জীবনযাপন ও বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের দেওয়া বক্তব্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে তাঁদের ফেরাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল দেশে ফিরে এলে হ্যারি ও মেগান কি আবারও রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন? রাজা তৃতীয় চার্লসের চিঠির মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়েছে।
রাজকীয় মর্যাদা থাকছে, দায়িত্ব নয়
হ্যারি ও মেগানের বর্তমান অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁরা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন না করলেও তাঁদের রাজকীয় খেতাব ও মর্যাদা বহাল থাকছে।
অর্থাৎ রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক সম্পর্ক অটুট থাকলেও রাষ্ট্রীয় বা আনুষ্ঠানিক রাজকীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁরা কর্মরত সদস্যদের তালিকায় থাকছেন না।
এ ছাড়া তাঁদের ব্যক্তিগত আর্থিক কর্মকাণ্ড ও দাতব্য উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতাও থাকছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তাঁদের অবস্থান অনেকটা ব্যক্তিগত জীবন ও নিজস্ব পেশাগত কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক হবে।
যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন
প্রায় ছয় বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর গত মাসের শেষ দিকে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে ফেরেন হ্যারি ও মেগান। তাঁদের প্রত্যাবর্তন ব্রিটিশ গণমাধ্যমে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে।
রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক, নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাজ্যে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান এসব বিষয়ও আলোচনায় আসে। এর মধ্যেই রাজা তৃতীয় চার্লসের চিঠিতে তাঁদের রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হলো।
ফলে হ্যারি ও মেগানের সামনে এখন একদিকে রাজপরিবারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ থাকছে, অন্যদিকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনও আগের মতো পরিচালনা করতে পারবেন তাঁরা।
ব্রিটিশ রাজপরিবারে তাঁদের অবস্থান তাই আপাতত এমন রাজকীয় পরিচয় থাকছে, কিন্তু রাজকীয় দায়িত্ব নয়।
সূত্র: রয়টার্স