ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

মার্কিন হামলার শঙ্কা, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬:৪১, ১ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন হামলার শঙ্কা, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইরান

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান এবং নতুন করে সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ১২ ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়। পরদিন দোহায় সেই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

শনিবার আটলান্টায় জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে রুবিও বলেন, কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে আগ্রহী। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও ওয়াশিংটনের রয়েছে।

ইরানের কঠোর অবস্থান

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব দিতে হবে দ্রুত এবং প্রয়োজনে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।

ইরানের সামরিক বাহিনীও যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিটি পর্যালোচনার কথা স্বীকার করে রেজায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। এটিকে তিনি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি ভ্যান্সের চিঠিকে সংলাপ শুরুর একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কাতার সাত দিনের একটি আস্থা তৈরির পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। এতে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে প্রতিদিন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। তবে তেহরান প্রস্তাবটিকে পর্যাপ্ত মনে করেনি।

অন্যদিকে ইরানের নিজস্ব সাত দিনের প্রস্তাবে দেশটির বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এর বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে আগেই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসানে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো আলোচনার বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি ও গালফ টাইমস।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন