আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৩৩, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এই অভিযান শুরু হয়। জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জাক্সা) তৈরি মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন (এমএমএক্স) মহাকাশযানটি এইচ-৩ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযানটি নির্ধারিতভাবে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগস্টে মহাকাশযানটির মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা। এরপর এটি মঙ্গলের বৃহত্তর উপগ্রহ ফোবোসকে ঘিরে অবস্থান করে তার ভূপ্রকৃতি, গঠন ও উপাদান পর্যবেক্ষণ করবে। অভিযানের অংশ হিসেবে ফোবোসের পৃষ্ঠে একটি রোবটযানও পাঠানো হবে, যা নমুনা সংগ্রহের উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য, ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম মাটি ও শিলার নমুনা সংগ্রহ করা। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে ২০৩১ সালে নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবে মহাকাশযানটি।
ফোবোস ও ডেইমোস নামের দুটি উপগ্রহকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। এগুলো কি গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে মঙ্গলের মহাকর্ষে আটকা পড়েছে, নাকি মঙ্গলের সঙ্গে অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব রয়েছে। ফোবোস থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবেন গবেষকেরা।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে মঙ্গলের অপর উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইউরোপের কয়েকটি মহাকাশ সংস্থা এ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। সফল হলে মঙ্গলের কোনো উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি হবে প্রথম অভিযান।
বিশেষজ্ঞদের আশা, এ অভিযানের ফলাফল শুধু মঙ্গলের উপগ্রহগুলোর উৎপত্তি সম্পর্কে ধারণা দেবে না, বরং গ্রহের বিবর্তন, সৌরজগতের গঠন এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানব অভিযানের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।