আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৩৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন আসিম মুনির। ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৈঠকে ইরানের নেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তেহরানের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে গত মাসে ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের আস্থা ফিরে পাবে না।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা।
দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। একই সঙ্গে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, সংঘাতের অবসান ও সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। অন্যদিকে, ইরান তার পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে।
এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। জুনে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে ব্যবধান থাকায় আলোচনার অগ্রগতি অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।