ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

পর্দার প্রেম থেকে বাস্তবের সংসার

মৌসুমী-ওমর সানীর তিন দশকের পথচলা

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:০০, ২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৮:০১, ২ নভেম্বর ২০২৬

মৌসুমী-ওমর সানীর তিন দশকের পথচলা

সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশক ছিল তারকাদের উত্থান ও জনপ্রিয়তার এক স্মরণীয় সময়। সেই সময়ের আলোচিত জুটিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও চিত্রনায়ক ওমর সানী। বড় পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের মন জয় করেছিল। অভিনয়ের সূত্রে পরিচয়, পরিচয় থেকে ভালো লাগা, তারপর প্রেম এবং বিয়ে। এভাবেই পর্দার গল্প একসময় বাস্তব জীবনের গল্পে রূপ নেয়।

দীর্ঘ তিন দশকের দাম্পত্য জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁরা গড়ে তুলেছেন একটি পরিবার। চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা, তারকাখ্যাতি, ব্যবসা, সন্তানদের বেড়ে ওঠা এবং সময়ের পরিবর্তন, সবকিছু মিলিয়ে তাঁদের জীবন যেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। এই দম্পতির দুই সন্তান ফারদীন এহসান স্বাধীন ও ফাইজা আবিহা মৌসুমী। বাবা-মা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ হলেও সন্তানরা অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেননি। একজন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কসমেটোলজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, অন্যজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

বর্তমানে মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে এবং ওমর সানী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ছেলে দুবাইয়ে, মেয়ে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও ভালোবাসার বন্ধন অটুট রয়েছে। সম্প্রতি মেয়ের জন্মদিনে মা মৌসুমীর আবেগঘন শুভেচ্ছা এবং বাবা ওমর সানীর ভিডিও কলে শুভকামনা জানানোর মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে এই তারকা পরিবারের গল্প। 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মৌসুমীর আবির্ভাব নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর পুরো নাম আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ছবিতে সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি।

প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন মৌসুমী। তাঁর অভিনয়, পর্দায় উপস্থিতি এবং সাবলীল অভিব্যক্তি তাঁকে দ্রুত সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকায় পরিণত করে। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক ও গল্পনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দোলা’, ‘স্নেহের বাঁধন’, ‘দেনমোহর’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘মোল্লা বাড়ির বউ’, ‘খায়রুন সুন্দরী’, ‘তারকাঁটা’ ও ‘দেবদাস’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। রোমান্টিক চরিত্রের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক ও বাস্তবধর্মী গল্পেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অভিনয়ের পরিসরও বিস্তৃত করেছেন মৌসুমী। পরিচালনা, প্রযোজনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন। ‘মেঘলা আকাশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর একটি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

ওমর সানী: নায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতা

ওমর সানীও নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। সুদর্শন চেহারা, পর্দায় ব্যক্তিত্ব এবং অ্যাকশনধর্মী অভিনয়ের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। ‘চাঁদের আলো’, ‘প্রেম প্রতিশোধ’, ‘মহৎ’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার এগিয়ে যায়।

একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের নিয়মিত নায়ক ছিলেন তিনি। অ্যাকশন, রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘কুলি’, ‘আত্ম অহংকার’, ‘দোলা’, ‘লাট সাহেবের মেয়ে’, ‘প্রিয় তুমি’ ও ‘রঙিন রংবাজ’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে পরিচিতি পায়।

পরবর্তী সময়ে নায়কের চরিত্র থেকে খলনায়ক ও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকেছেন ওমর সানী। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বদলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি কমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হয়েছেন তিনি। 

পর্দার পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর বিয়ে

মৌসুমী ও ওমর সানীর পরিচয়ের সূত্র চলচ্চিত্র। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া দিলীপ সোম পরিচালিত ‘দোলা’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার জুটি হিসেবে অভিনয় করেন তাঁরা। পর্দায় তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এরপর একাধিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

শুধু ‘দোলা’ নয়, ‘আত্ম অহংকার’, ‘প্রিয় তুমি’, ‘লাট সাহেবের মেয়ে’, ‘রঙিন রংবাজ’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁদের জুটি দেখা গেছে। একসময় এই জুটির ছবি মুক্তি পাওয়া মানেই দর্শকের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হতো। পর্দার রোমান্টিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনেও জায়গা করে নেয়।

১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট বিয়ে করেন মৌসুমী ও ওমর সানী। তাঁদের বিয়ের খবর তখন বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট তাঁরা দাম্পত্য জীবনের ৩১ বছর পূর্ণ করেছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তাঁদের সংসারে এসেছে দুই সন্তান। 

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা তৈরি হলেও এই দম্পতি সংসার ও সন্তানদের গুরুত্ব দিয়েছেন। দুজনের অভিনয়জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার বিষয়ে তাঁরা সচেতন ছিলেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে না দিয়ে তাঁদের আগ্রহ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

বড় ছেলে ফারদীন: ঢাকার ব্যবসা থেকে দুবাইয়ের আবাসন খাতে

মৌসুমী ও ওমর সানীর বড় সন্তান ফারদীন এহসান স্বাধীন। তারকা বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। তবে বড় হওয়ার পর বাবা-মায়ের পরিচয়ের বাইরে নিজের মতো করে পেশাগত জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন।

ফারদীন বাংলাদেশে ও লেভেল ও এ লেভেল সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের দিকে মনোযোগ দেন। একসময় ঢাকার উত্তরায় ‘মেরিমন্টানা’ নামের একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেস্তোরাঁ ব্যবসার পাশাপাশি নির্মাণ ও চলচ্চিত্র প্রযোজনার কাজেও সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

তবে তাঁর পেশাগত জীবনে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। পড়াশোনা শেষ করে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট বা আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ বাবা-মায়ের মতো চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ না করে ব্যবসা ও করপোরেট পেশার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ওমর সানী সন্তানদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছেন, ফারদীন পড়াশোনা শেষ করে দুবাইয়ে ভালো আছেন এবং রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। এর আগে নির্মাণ ও চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেসব কাজে নেই তিনি। 

ফারদীনের জীবনযাত্রায় বাবা-মায়ের তারকাখ্যাতির প্রভাব থাকলেও তিনি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার পথেই এগিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর পেশা নির্বাচনে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, নিজের কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণেও ভূমিকা রাখবেন তিনি।

ছোট মেয়ে ফাইজা: নিউইয়র্কে কসমেটোলজি নিয়ে পড়াশোনা

এই তারকা দম্পতির ছোট সন্তান ফাইজা আবিহা মৌসুমী। বাবা-মায়ের কাছে আদরের এই মেয়েও পড়াশোনা শেষ করে নিজের পছন্দের বিষয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে হাঁটছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশে ও লেভেল ও এ লেভেল সম্পন্ন করেছেন ফাইজা। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য নিজের পছন্দের বিষয় বেছে নেন। বর্তমানে নিউইয়র্কে কসমেটোলজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। কসমেটোলজি মূলত ত্বক, চুল, সৌন্দর্যচর্চা ও ব্যক্তিগত পরিচর্যাসংশ্লিষ্ট একটি পেশাভিত্তিক শিক্ষাক্ষেত্র। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতে নিজের পেশাগত জীবন সাজাতে চান তিনি।

ফাইজার পড়াশোনা ও পেশা নির্বাচনেও বাবা-মায়ের সমর্থন রয়েছে। ওমর সানী জানিয়েছেন, সন্তানদের ওপর কোনো পেশা চাপিয়ে দেননি তাঁরা। বরং প্রত্যেককে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পড়াশোনা ও কাজের ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

গত ২৯ অক্টোবর ছিল ফাইজার জন্মদিন। বিশেষ দিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মেয়েকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানান মা মৌসুমী। মেয়েকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার, গর্ব ও পৃথিবী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মেয়ের সুস্থতা, সুন্দর জীবন ও স্বপ্নপূরণের জন্য দোয়া করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশে থাকা বাবা ওমর সানী ভিডিও কলে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। মেয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও দেন তিনি। বাবা-মায়ের এমন ভালোবাসা ও শুভকামনা আবারও সামনে নিয়ে আসে তাঁদের পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি। 

সন্তানদের পেশা নির্বাচনে নেই বাবা-মায়ের চাপ

মৌসুমী ও ওমর সানীর সন্তানদের জীবনযাপনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাঁরা বাবা-মায়ের পেশা অনুসরণ করতে বাধ্য হননি। চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিবারে জন্ম হলেও ফারদীন ও ফাইজা দুজনই ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ওমর সানী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্তানদের এ লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনার বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। এরপর দুজনই নিজেদের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করতে চেয়েছেন। বাবা-মা হিসেবে তাঁদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন তিনি ও মৌসুমী।

ওমর সানীর বক্তব্যের সারকথা, সন্তানরা নিজেদের মতো করে বেড়ে উঠুক, নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং তাদের জীবন যেন মানুষের উপকারে আসে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-মায়ের এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের পারিবারিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এখন দুই সন্তান দুই দেশে। বড় ছেলে দুবাইয়ে কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত, ছোট মেয়ে নিউইয়র্কে পড়াশোনা করছেন। বাবা বাংলাদেশে, মা যুক্তরাষ্ট্রে। দূরত্ব থাকলেও বিশেষ দিনগুলোতে একে অপরের পাশে থাকার চেষ্টা করেন তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমী, বাংলাদেশে ওমর সানী

সাম্প্রতিক সময়ে মৌসুমীর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্রজীবন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানে থাকলেও অভিনয়ের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অংশ নেন। পরে সেটি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায়।

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে নিয়মিত অভিনয়ে ফেরা কিংবা নতুন চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে ওমর সানী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় কমিয়ে ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে সময় দিচ্ছেন। সম্প্রতি একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। 

দুজন দুই দেশে থাকলেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। বিশেষ দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভালোবাসা ও শুভকামনা প্রকাশ করেন।

তিন দশকের সংসার, নতুন প্রজন্মের নতুন ঠিকানা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অনেক তারকা জুটি এসেছেন, জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, আবার সময়ের সঙ্গে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু মৌসুমী ও ওমর সানীর নাম এখনো নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা দখল করে আছে। তাঁদের অভিনীত চলচ্চিত্র, পর্দার রসায়ন এবং ব্যক্তিজীবনের দীর্ঘ পথচলা মিলিয়ে তাঁরা বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত একটি দম্পতি।

তাঁদের জীবনের গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দুই সন্তান। ফারদীন ও ফাইজা দুজনই বাবা-মায়ের পরিচিতির বাইরে নিজেদের মতো করে জীবন সাজাচ্ছেন। একজন দুবাইয়ে আবাসন খাতে কাজ করছেন, অন্যজন নিউইয়র্কে কসমেটোলজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সন্তানদের পেশা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তাঁদের স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।

একসময় বড় পর্দায় প্রেমের গল্পে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন মৌসুমী ও ওমর সানী। সেই পর্দার পরিচয় থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের বাস্তব জীবনের পথচলা। আজ তাঁদের সন্তানরা নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে ভিন্ন দেশে, ভিন্ন পেশায় এগিয়ে যাচ্ছেন।

চলচ্চিত্রের আলো থেকে পারিবারিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা, সব মিলিয়ে মৌসুমী ও ওমর সানীর গল্প কেবল দুই তারকার প্রেম ও বিয়ের গল্প নয়; এটি একটি পরিবারের বেড়ে ওঠা, পরিবর্তন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে নিজেদের মতো করে গড়ে তোলার গল্পও।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন