ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:১১, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের প্রবীণ অভিনেত্রী নাসিমা খান। ছবি: সংগৃহীত সংগৃহীত

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার লুবানা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাসিমা খান বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার লুবানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাসিমা খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন। আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমের মতো খ্যাতিমান অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি।

শুধু ঢাকার চলচ্চিত্রেই নয়, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে নির্মিত উর্দু চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন নাসিমা খান।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অভিনেতা ওমর সানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, নাসিমা খান ছিলেন প্রবীণ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও জ্ঞানসমৃদ্ধ একজন শিল্পী। তার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়াত এই অভিনেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ওমর সানি।

চলচ্চিত্রে অভিষেক

নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। পারিবারিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার।

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এ ছাড়া ‘উজালা’, ‘বেগানা’ ও ‘উলঝন’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

লাহোরের চলচ্চিত্রেও সাফল্য

ঢাকার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি লাহোরে নির্মিত একাধিক উর্দু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন নাসিমা খান। এসব চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নয়ি লায়লা নয়া মজনু’ (১৯৬৯), ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ (১৯৬৯), ‘আঁসু বন গয়ে মোতি’ (১৯৭০) ও ‘রোড টু সোয়াত’ (১৯৭১)। এর মধ্যে ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ চলচ্চিত্রটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একসময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে আবার পর্দায় ফেরেন। এরপর বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নাসিমা খান। এটিই ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র বলে জানা গেছে।

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন দর্শকদের কাছে পরিচিত থাকা এই প্রবীণ শিল্পীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন