এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৫৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় হামলার পর তছনছ হয়ে যায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও। সংগৃহীত
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদী এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক লোক কয়েকটি পিকআপ ও ট্রাকে করে সেখানে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুলি ছুড়ে প্রকল্প এলাকায় ঢোকার পর একে একে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও।
রাত সাড়ে ১০টায় হঠাৎ হামলা
ঘটনার শুরু শনিবার রাতে। নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় দিনের কাজ শেষ করে নির্মাণশ্রমিক ও কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকটি গাড়িতে করে হামলাকারীরা সেখানে জড়ো হয়। প্রথম আলোর প্রত্যক্ষদর্শীভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি পিকআপে করে দুই থেকে তিন শ লোক এসে প্রকল্পের মূল ফটকে অবস্থান নেয়। এরপর ফটক ভেঙে গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা।
দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, হামলাকারীর সংখ্যা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন হতে পারে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি আশপাশের বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং নিউ গিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা চালানো হয়।
গুলির শব্দে আতঙ্ক
হামলার সময় একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। মামলার এজাহারে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীদের কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারও হাতে রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের নির্মাণশ্রমিকদের কয়েকজন জানান, গুলির শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। পরে হামলাকারীদের একটি অংশ সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের নিচে নামিয়ে আনে। কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, তাদের মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়।
হামলায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তছনছ ব্রাউনফিশ স্টুডিও
হামলাকারীদের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও। নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিওটি তৈরি করেছিলেন সালমান।
হামলার পর স্টুডিওর ভেতরের চিত্র ছিল ভয়াবহ। ভাঙা কাচ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাব, ক্ষতিগ্রস্ত বাদ্যযন্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্টুডিওর ক্যামেরা, রেকর্ডিং সরঞ্জাম, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন পেশাদার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত বা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সালমানের অর্জিত ইউটিউবের সিলভার ও গোল্ড প্লে বাটনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। ভাঙচুরের দৃশ্য নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও করে দেখান সালমান মুক্তাদির। সেখানে স্টুডিওর চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়।
গভীর রাতে লাইভে সালমান
হামলার পর গভীর রাতে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন সালমান মুক্তাদির। রাত পৌনে ২টার দিকে দেওয়া ওই ভিডিওতে তিনি স্টুডিওটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা জানান।
সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের শুটিংয়ের ফুটেজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের উপকরণ ছিল। ফলে ভাঙচুরের কারণে শুধু স্থাপনা বা যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়নি, তার পেশাগত কাজও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রথম দিকে তিনি ঘটনাটিকে চাঁদাবাজি ও লুটপাট হিসেবে বর্ণনা করেন। তার অভিযোগ ছিল, বিপুলসংখ্যক লোক এসে স্টুডিওতে হামলা চালিয়েছে। তবে পরে পুলিশের বক্তব্যে ঘটনাটির পেছনে জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশের বক্তব্যে বদলে যায় ঘটনার মোড়
হামলার পরপরই ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির ঘটনা হিসেবে দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও পাশের জমির মালিকদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই একটি পক্ষ জমির দখল নিতে সেখানে যায় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও মূল হামলার লক্ষ্য ছিল না।
ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার নজমুল আলম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে একটি পক্ষ অন্য পক্ষের জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। ওই সময় স্টুডিওটি তাদের চলাচলের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় সেখানে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছিল।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনও জানান, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরেই হামলা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবসরপ্রাপ্ত একজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে নিউ গিনি প্রপার্টিজের জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
৩৫ কাঠা জমির বিরোধের তথ্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও ঘটনাটিকে প্রায় ৩৫ কাঠা জমির বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও অবসরপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিতে একটি পক্ষ রাতে সেখানে গিয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অর্থাৎ, সালমানের স্টুডিওকে ঘিরে শুরু হওয়া আলোচনার কেন্দ্রে এখন আর শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সম্পত্তি ভাঙচুর নয়, বরং বড় একটি জমি বিরোধের বিষয়টিও চলে এসেছে।
তবে জমির মালিকানা, দখল এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মামলা হলো, আসামি ১৩ জন
হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে প্রবেশ, গুলি ছোড়া, ভাঙচুর, লুটপাট এবং চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা চুরি এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শাহরিয়ার মাহমুদ, আবুল কাশেম, বাবুল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এম কে আজাদ, মো. মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্না। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন।
গ্রেপ্তার ৫
ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবি অভিযান শুরু করে। প্রথমে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ে।
পুলিশ শাহরিয়ারকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার সঙ্গে মো. মামুন, আসলাম ও মুন্নাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ডিবি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করে। এভাবে এখন পর্যন্ত পাঁচজন গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে আদালতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে মামুন, আসলাম ও মুন্নাকে হাজির করা হয়। তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও রিমান্ড আবেদনের শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শাহরিয়ার
ডিবি শাহরিয়ারকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তদন্তকারীদের ধারণা, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে হামলার আগে কী ধরনের পরিকল্পনা হয়েছিল, কারা অর্থ বা লোকবল জোগান দিয়েছিল এবং হামলায় কার কী ভূমিকা ছিল, সেসব এখনো তদন্তের বিষয়।
গ্রেপ্তার অনিক নিয়েও নতুন তথ্য
২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ডিবি শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করার খবর প্রকাশ করে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানিয়েছে ডিবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিন, চার ও পাঁচ হিসেবে এসেছে। এর কারণ হলো, অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ আলাদাভাবে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আদালতে কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন মামুন, আসলাম ও মুন্না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সালমানের ক্ষোভ
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। মন্ত্রী বলেন, সালমান মুক্তাদির ঘটনার বিষয়ে ফেসবুকে অভিযোগ করলেও শুরুতে মামলা করেননি। তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগকে ঢালাও অভিযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি ৩৫ কাঠা জমির বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পাওয়া গেছে।
এর পর সালমান মুক্তাদির ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, ঘটনা চাঁদাবাজি না জমি বিরোধ, সেটি তদন্তের বিষয় হলেও একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি সরকারের কাছে তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
ঘটনার পর কয়েকটি প্রশ্ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। প্রথমত, হামলায় অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক লোক কারা ছিল এবং তাদের কতজন শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী এবং অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছিল। তৃতীয়ত, স্টুডিও ও অন্যান্য স্থাপনা থেকে ঠিক কত টাকার সম্পদ লুট হয়েছে।
এর পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত মালিকানা ও দখল পরিস্থিতিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউ গিনি প্রপার্টিজ এবং অন্য জমির মালিকদের বিরোধের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্পর্ক কী ছিল, সেটিও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায়।
তদন্তের দিকেই এখন নজর
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা এরই মধ্যে শুধু বিনোদন অঙ্গনের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি জমি বিরোধ, দখল, সশস্ত্র হামলা, লুটপাট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি বড় ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী সালমানের স্টুডিও ছিল মূল বিরোধের কেন্দ্র নয়; জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা চালানোর সময় স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে সালমানের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সম্পদ ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, হামলার নির্দেশদাতা ও অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা এবং জমি বিরোধের নেপথ্যের বিষয়গুলো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত অগ্রগতি হলো মামলা হয়েছে, পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তিনজনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। তদন্ত এগোলে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, অস্ত্রের ব্যবহার এবং লুট হওয়া সম্পদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।