এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:২৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
যশোরে নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার অভিনেতা সমু চৌধুরী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্যারেজের মালিক হৃদয় ও কর্মী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সমু চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় স্থানীয় একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজের মেকানিক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। হামলায় গ্যারেজের মালিক হৃদয়ও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেতা। তবে হৃদয় দাবি করেছেন, তিনি সরাসরি হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের মধ্যে নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সদস্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, এরপর চলচ্চিত্রে সমু চৌধুরী
হামলার শিকার সমু চৌধুরী বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। তার অভিনয়জীবনের শুরু মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। ছাত্রজীবনে তিনি যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে টানা প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেন।
১৯৯০ সালে নির্মাতা আতিকুল হক চৌধুরীর ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন নাটকে যাত্রা শুরু করেন সমু চৌধুরী। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘সাতপৌরে কাব্য’, ‘এই সময়ের গল্প’, ‘জিনের বাদশা’, ‘সোনালী রোদ্দুর’, ‘এবং আমি’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’ ও ‘দূরের আকাশ’-এর মতো নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান। নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকের দর্শকদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত অভিনয়শিল্পী।
টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। পরে ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’ ও ‘সুন্দরী বধূ’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্র এবং পরবর্তী সময়ে ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা।
অভিনয় থেকে বিরতি, আবারও ফেরা
অভিনয়জীবনের একপর্যায়ে অভিমান করে কয়েক বছর কাজ থেকে দূরে ছিলেন সমু চৌধুরী। এ সময় তিনি ঢাকার ব্যস্ত অভিনয়জগৎ ছেড়ে নিজের শহর যশোরে ফিরে যান। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। এরপর ধীরে ধীরে কাজে যুক্ত হন এবং নাটকে অভিনয় অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে তিনি নাটকের নির্মাণব্যয়, গল্পের ধরন এবং আগের সময়ের নাট্যচর্চা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
সমু চৌধুরীর জন্ম যশোরে। তার পৈতৃক বাড়ি শহরের আর এন রোড এলাকায়। শিক্ষাজীবনে তিনি যশোর সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৮০ সালে সেখান থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকায় আসেন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই পরবর্তী সময়ে মঞ্চ ও টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ শুরু করেন।
দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন সমু চৌধুরী। যশোরে তার ওপর হামলার ঘটনায় এখন তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।