আরাফাত ইসলাম রাসেল
প্রকাশ: ২৩:৪১, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৪২, ২৪ জুন ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পতাকা- ফাইল ছবি
ইতিহাসের তথ্যানুযায়ী, উপমহাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল ছিল কংগ্রেস। তবে, সেখানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাদের দাপট ছিল তুঙ্গে। বঞ্চিত ছিলেন মুসলিম নেতারা। ১৯০৫ সালে বঙ্গবঙ্গের বিরোধিতা করে বসে কংগ্রেস। ফলে, প্রতিষ্ঠা পায় মুসলিম লীগ নামের আরেকটি রাজনৈতিক দল। মূলত পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশের নেতারাই দলটি গঠন করেন। কালের পরিক্রমায় কংগ্রেসের মতোই তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের অবজ্ঞা ও উন্নয়নে বৈষম্য সৃষ্টি করেন। ব্রিটিশ সম্রাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়ার আগেই মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান অংশের নেতারা পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের মনোভাব বুঝে ফেলেন।
বিশেষ করে, তখনকার মুসলিম লীগের নেতা হোসেন মোহাম্মদ সোহরোওয়ার্দী বিষয়টি আঁচ করেন। তখনকার সময়ে ঢাকা ১৫০ নম্বর মোগলটুলিস্থ পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবির গঠন হয়েছিল, যার প্রধান নেতা ছিলেন শামসুল হক। সেই কর্মী শিবিরই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর। সেই কর্মী শিবিরে শেষে যোগ দেন শেখ মুজিবুর রহমানও। তখনও মুসলিম লীগের রাজনীতি করতেন শেখ মুজিব। একবার মামলার কাজে ঢাকায় এসেছিলেন হোসেন মোহাম্মদ সোহরোওয়ার্দী। তিনি মুসলিম লীগ নেতা শওকত আলীকে জানালেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নতুন রাজনৈতিক গঠন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কাজ করেন শামসুল হক, শওকত আলী, কামরুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ (ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাবা), তাজউদ্দীন আহমদ, আতাউর রহমান খান, আবদুল আউয়াল, মুহম্মদ আলমাস, শামসুজ্জোহা প্রমুখ।
নেতাদের প্রচেষ্টায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন টাঙ্গাইলের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেন (খায়ের মিয়া) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। কোষাধ্যক্ষ হন ইয়ার মোহাম্মদ খান। এসময় শেখ মুজিব কারাবন্দী ছিলেন। একই সময় পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। সেটির সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
২৪ জুন বিকেলে মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে প্রকাশ্যে জনসভা করে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ। সভায় আনুমানিক প্রায় চার হাজার লোক হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বসহ ৪২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে দলটি। শুরুর দিকে দলটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি, এক ব্যক্তির এক ভোট, গণতন্ত্র, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু'অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ১৯৫২ সালে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমান। পরের বছর ঢাকার 'মুকুল' প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও নেজামে ইসলামের সঙ্গে জোট করে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে দলটি। ১৯৫৪ সালের মার্চের আট থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এরমধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ।
২৪ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে আওয়ামী মুসলিম লীগ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে দু'বছর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার ছিল।
১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের নামকরণ করা হয় "আওয়ামী লীগ"। সেটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি। পরে আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখা হয় তাকে। তিনি ছিলেন চরম জাতীয়তাবাদী ও বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত।
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ছয় দফা ঘোষণা তখনকার সামরিক জান্তার ওপর বিশাল প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। আওয়ামী লীগ তখন বাংলার মানুষের কাছে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিগণিত ছিল। অবশেষে ১৯৭০ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় আওয়ামী লীগ। আর লজ্জার দিন গুনতে থাকে মুসলিম লীগ। তখনকার জান্তা সরকার আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চায়নি। এ নিয়ে টালবাহানার মধ্যেই ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ ভারতের চক্রান্ত তকমা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এরপরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধকালীন শুরুতেই গ্রেফতার হন শেখ মুজিবুর রহমান। আর অন্যান্য নেতারা আশ্রয় নেন ভারতে। সেখান থেকে পরিচালনা করেন মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নেয় পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামি সংগঠন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমপর্ণ করে পাকিস্তান বাহিনী। আত্মসমর্পণ করা হয় যৌথ বাহিনীর হাতে, সেখানে ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাহিনী। যদিও ভারত সেই চুক্তিকে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে বরাবরই।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন আওয়ামী লীগের তখনকার সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছিল বাংলার গণমানুষের দল। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে চলছিল সরকার। তবে দেশে দুর্ভিক্ষ ও রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ। তখন হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭৪ সালে গণতন্ত্রের জন্য প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগকে এক ধরনের জ্যান্ত জবাই দেন শেখ মুজিব। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) উত্থানে ক্ষমতার ধারকের অবস্থান নিয়ে হতাশ ছিলেন শেখ মুজিব। তখনই তার প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগ ও রক্ষীবাহিনী সারাদেশে জাসদের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। ফলে, জাসদও সহিংসতার পথ বেছে নেয়। এতে তখন দেশে হত্যাযজ্ঞ নিত্যনৈমিত্ত হয়ে দাঁড়ায়। শেখ মুজিব চারটি পত্রিকা রেখে অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বন্ধ করার পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা শেখ মুজিবই স্বাধীনতা অর্জনের পর গণতন্ত্রের হন্তারক হন প্রথমেই। দেশের প্রতিটা অঙ্গন যখন শেখ মুজিবের শাসনে অতিষ্ঠ তখনই কিছু সেনাবাহিনীর অফিসার বহিষ্কৃত অফিসারদের নিয়ে একটি অপরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের প্রায় সবাইকে হত্যা করেন। সেই সময় বিদেশে থাকায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন প্রাণে বেঁচে যান।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তাজউদ্দিনের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দিন। দলকে আবার জনগণের জন্য কাজ করার প্রত্যয় দিয়ে নেতাকর্মীদের জড়ো করেন। কিন্তু তার হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকেনি। শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা দেশে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। দেশের মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনের পতন ঘটাতে ১৯৮৫ সালের নির্বাচন বর্জন ঘোষণা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল। তবে সব দল ও জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করে নির্বাচনে গিয়ে জাতীয় পার্টি ও হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের নির্বাচনকে বৈধতা দেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালে হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের পতন হলে নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তখনই দেশে সন্ত্রাস ও রাহাজানি আবার ফিরে আসে। তখনকার মেয়াদের শেষ বছর অর্থ্যা’ ২০২০ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়েত জোট সরকার। তখন দেশে হরতালের মতো কর্মসূচির বন্যা বইয়ে দিত আওয়ামী লীগ। জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি ছিল তাদের নিত্য কর্মসূচি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ আসনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সেই থেকে আওয়ামী লীগ বিচার বহিভূর্ত হত্যা, গুম ও বিরোধী দলকে দমন, বিরোধী দলের নেতাদের বিচারিক হত্যার পথে পা বাড়ায়। ২০১৪ সালে ফাঁকা নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন, ২০২২ সালের ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে আওয়ামী লীগ। দেশের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে নিজেদের দলের তাবেদার করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। সব জায়গায় দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দেশের মানুষের অর্থ বিদেশে পাঁচার, দুর্নীতি, লুটপাট শুরু করে আওয়ামী লীগ, ফলে মুদ্রস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের লাগাম সীমার বাইরে চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের কার্ড নিয়ে খেলতে যেয়ে ২০২৪ সালে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে দমন করতে যায় শেখ হাসিনা সরকার। কিন্তু, দেশবাসী সেই দমনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে। আওয়ামী লীগ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে গণহারে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে। দেশের মানুষ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারে উদ্বিগ্ন ততটা ছিলেন না, যতটা ছাত্রহত্যায় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তার অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সব ক্যাডারকে অস্ত্রসহ রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়। পুলিশ, বিডিআর ও রাজনৈতিক দল মিলে বেপরোয়াভাবে ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান অনেক মানুষ। প্রথমে আবু সাইদ নামের রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঢাকায় মুগ্ধ নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পানি বিতরণের সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া, হত্যার পর লাশ ভ্যানে তুলে পুড়ানোর মতো ঘটনা ঘটায় পুলিশ। পুলিশ ও লীগের হামলায় পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত গণহারে মানুষকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ সরকার। নারী শিক্ষার্থীদের করা হয় লাঞ্চিত। জাতিসংঘের তদন্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে ১৪০০ মানুষকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ২০ হাজারের অধিক মানুষ। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিশেষ বিমানে দেশ থেকে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তার দলের প্রায় শীর্ষ নেতা ভারতে পালিয়ে যান ৫ আগস্টের আগেই। যারা দেশে ছিলেন তারা পুলিশের হাতে আটক হন।
শেখ হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। তার সময়ে গণহত্যার জন্য বিশেষ আইনে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরকার। আন্দোলনের সময় সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করে ছাত্রলীগ। এছাড়া. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
আওয়ামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত দল। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর দলটি ভারত ঘেঁষা হয়ে পড়ে। ভারতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে দেশের মানুষের ব্যাপারে তোয়াক্কা করতো না শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এছাড়া, ক্ষমতার জন্য গণতান্ত্রিকতাকে কুলষিত করেছিল দলটি। বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট তকমা নিজেদের করেছিল আওয়ামী লীগ। মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত দলটি ভুল নেতৃত্বের হাতে পড়ে বারবার জনমানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিন্দিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এবার গণহত্যা চালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যাকারীদের দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল হোসেন মোহাম্মদ সোহরোওয়ার্দীর হাতে গঠিত ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগ।
লেখক- প্রকাশক, ঘুরিবাংলা ডটকম
আওয়ামী লীগ