এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫৯, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জোনায়েদ।
তিনি জানান, রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পান তারা। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর মাধ্যমে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নোটিশ পাওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু রাখলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যমান আইন ও তদারকির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা পর্যালোচনা করবে ফায়ার সার্ভিস।
পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড এবং অনুমোদনহীন কারখানা, গুদাম ও বিস্ফোরক পদার্থের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু রাস্তা ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকায় আগুন নেভানোর কাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এসব কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও বিল্ডিং কোড মেনে চলা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও ভবনে একসঙ্গে সব ধরনের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাস্তবে কঠিন এবং এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান মহাপরিচালক। সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের হোসপাইপ বহন করে কাছাকাছি ভবনের পানির আধারের সঙ্গে সংযুক্ত করে আগুন নেভানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।