এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:২৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আহত সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালকুদার- ছবি: সংগৃহীত
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে পঞ্চমতলার অপারেশন থিয়েটারের সমানে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকদের হাতে লাঠিসোটা থাকায় রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে এক ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা হচ্ছেন- সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা সিলেটভিউ ২৪-এর প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। তারা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের সহকর্মীরা।
আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার এক রোগীর অস্ত্রোপচার নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বিরোধ হয়। এ সময় চিকিৎসকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডের ভেতরে নারীরা ছোটাছুটি শুরু করলে তা ভিডিও ধারণ করতে যান সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার। তখনই তাদেরও বেধড়ক মারধর করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড (লোহার রড) দ্বারা পিটিয়ে দুই সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেন তারা। দুই সাংবাদিক ছাড়াও রোগীর স্বজন এক নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় কর্মবিরতি ডেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখেন তারা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মঈনুল জাকির জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনকে সাংবাদিকরা ফোন করলে তার কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
তবে, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. বদরুল আলম বলেন, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করা হবে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সাংবাদিক আক্রান্তের ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।
তিনি বলেন, এটা সত্য যে সাংবাদিকরা সেখানে মারামারি করতে যাননি। তারা দায়িত্ব পালন করতে গেছেন। তাদের ওপর হামলা করা ঠিক হয়নি। আমরা বিষয়টি দেখছি।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
রাতে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার অঘোষিত কর্মসূচি দেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকেরা। সাংবাদিকদের প্রবেশে তাদের আপত্তির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকি’সাসহ সব চিকিৎসা সেবা থেকে বিরত থাকেন তারা।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করা হয়। প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিদ হোসেন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা, সাংবাদিকদের সব সংগঠন মিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, মানুষের ভোগান্তি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সংগ্রহ করেন সাংবাদিকরা এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।