ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

চকবাজারে আগুন:

রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার তাগিদ ডিএসসিসি প্রশাসকের

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:০৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার তাগিদ ডিএসসিসি প্রশাসকের

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। সংগৃহীত

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর মার্কেট ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্যও জরুরি। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে আশপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। তাই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তদন্ত শেষ হলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগ তৈরির একটি কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আশপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানা থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন উল্লেখ করে তিনি দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণকাজে নিয়োজিত কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পুরান ঢাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ড এবং অগ্নিনির্বাপণে পানির সংকট নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সংকট সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, পুরান ঢাকার পুকুর সংরক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

চকবাজারে কেমিক্যালজনিত অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কেমিক্যালের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কেমিক্যাল-সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পরে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন