এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৪৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪৫, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও দেশের প্রতি সবার অধিকার ও দায়িত্ব সমান। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করা সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় সবার আগে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে না দেখে মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান জানানো উচিত। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের সুফল সব নাগরিকই ভোগ করবেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান, তা বিবেচনা করা হয়নি। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় সবাই একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন।
একইভাবে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামা মানুষ একে অপরের ধর্ম জানতে চাননি। সবার লক্ষ্য ছিল কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন।
দেশের পরিবর্তনে সবার অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। বিপদের সময় যেমন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়, তেমনি সুসময়ে মানুষের পরিচয় হওয়া উচিত মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে চিনি ও জানি।’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন আনন্দ ও মিলনের উপলক্ষ। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে একসঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।