এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৪৪, ২১ জুন ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাশেদ খাঁনকে নিয়ে পোস্ট দেন হানজালা।
পোস্টে হানজালা লেখেন, ‘রাশেদ খান আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকব বাঘের সাথে– বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না! আর রাশেদ খানকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে! চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ– গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে!’
শনিবার (২০ জুন) হানজালার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক মিনিটের ওই ভিডিওতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতা এমপি হানজালাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে শনিবার (২০ জুন) হানজালাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?’
রাশেদ আরও লেখেন, ‘এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো– আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মতো ট্রিট করে। হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধী দলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।’
গত ২২ মে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিস হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমপি সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তারামিয়াসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান।
ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার কেন দিলেন? এই মিয়া চুপ করেন। একবারে চুপ, একটা কথাও কেউ বলবেন না। সবগুলারে খাইয়া হালামু। আমি এখানে আছি কেন, বিচার করার জন্য! কাউন্টার দিলে আমি দিমু, কাউন্টার দিলে আমি দিমু এখানে। আমাকে ডাকছেন কেন এখানে বলুন। ওঠেন এখানে কোনো বিচার করুম না, ওঠেন। আমি এখানে বসা, চিল্লাচিল্লি কেন হবে?’
এ সময় সালিসে উপস্থিত একব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
গত শনিবার (২০ জুন) পীরজাদা হানজালার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল। তর্কে জড়াইছিল। তারা বেশ ঝামেলা করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে। এখন ভিডিও ছড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিস বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’