এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৪৪, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৪৫, ২ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি উত্তেজিত হন।
এ সময় ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে সংকটের সমাধান করতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। পরিস্থিতি শান্ত করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে তিনি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেবো’ বলে হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন। পরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনার আগে বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন এমপি।
তারা হলেন- শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী ও খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।
এ চার এমপির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমানের বিজি৩৩৮ ফ্লাইটটি। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী তিন ঘণ্টা পরও ট্যাগযুক্ত লাগেজ বুঝে পাননি। এ ঘটনায় যাত্রী হয়রানি, লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা ।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর করা ওই অভিযোগে বলা হয়, বিজি৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ পাননি। যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন এমপি ছিলেন। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যৌক্তিক কারণ জানানো কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও হয়রানির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, লাগেজ বুঝে না পেয়ে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিযোগকারীরা।
ওই অভিযোগের কপির ছবি নিজ ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর সঙ্গে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ হতে যাত্রী হয়রানি, মালামাল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না পাওয়া ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে আমরা ৪ জন এমপি বিমান কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলাম।
ওই অভিযোগের কপি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই জামায়াতের ঙ্গে নব্য যুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
অবহেলায় দুই কর্মকর্কতা অভিযুক্ত
পবিত্র উমরাহ পালন শেষে মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৩৮। উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা ফ্লাইটের যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে সাময়িক বিলম্ব হয়।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কন্টেইনার খালাস ও পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে বিলম্বের বিষয়টি উঠে আসে। ঘটনাটি নজরে আসার পর যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগ কমাতে বিমান কর্তৃপক্ষ নিজস্ব মজুত থেকে দ্রুত জমজমের পানি বিতরণের ব্যবস্থা করে। পরে অপর কন্টেইনারটিও দ্রুত শনাক্ত করে যাত্রীদের কাছে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় সেবার মান ও দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান এবং ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উমরাহ যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগ নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অভ্যন্তরীণ তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ না পাওয়ার ভোগান্তি নিয়ে লাইভ ভিডিও করেছিলেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। লাইভে তিনি বিমানবন্দরের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। এ প্রতিক্রিয়ায় বিমানবন্দরের অব্যাপবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।