এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ধানমন্ডিতে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সংগৃহীত
সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ওই ব্যক্তিকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে ওঠবসও করানো হয়। আশপাশের কয়েকজনকে ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’ এবং ‘ক্যানটিনে ঘটনাটি ঘটেছে’ বলতে শোনা যায়। কেউ কেউ মুঠোফোনে পুরো ঘটনা ধারণ করেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই ব্যক্তি বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মারধরকারী যুবক ও এক পথচারী তার মুঠোফোন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময়ও তাকে চড় মারতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক হাত দূরে দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা মারধর বন্ধে এগিয়ে আসেননি।
২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর অভিযোগ, ব্যক্তি তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাকে ধরে কাছাকাছি থাকা দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তারা দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ দেখিয়ে তরুণীকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পরে তরুণী তার মামাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। তিনি সেখানে পৌঁছে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেন।
ভিডিওটি ‘সম্রাট শাহাদত’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ৪৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে মারধরের ঘটনা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
আটকের পর শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮) নামের ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়। ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বীকার করায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা সম্পর্কে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার মারমুখী ও উত্তেজিত আচরণের কারণে ওই দুই পুলিশ সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করা অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িত যুবককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও জানান, দায়িত্ব পালনকালে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এমবিবিএস পড়ার সময় থেকেই তার এ সমস্যা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তার বিয়ে হয়েছিল, তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।