এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সৈকত হালদারকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর অভিযোগের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার এবং অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সৈকত হালদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার ক্লাস রোল নম্বর ১১৮৬ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০২২২০৫৫৭৯২। তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্য আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগে বর্ণিত কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫(ক) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী অসদাচরণের আওতাভুক্ত হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে অধ্যাদেশের ৪(১)(ক) ধারা অনুযায়ী চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ প্রশাসন) মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক ড. কে এম জাহিদুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন ড. মো. আলমগীর কবির।
কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে সৈকত হালদারকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখন বলেন, অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা; একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া; হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ধর্মীয় অবমাননার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামসুল আলম প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্তের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ন্যায়বিচারের দাবি যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতায় রূপ না নেয়। অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় অবমাননা ও পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।