এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৪৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ভুলে তিন গোল হজম করে হারের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি। জার্মান-আমেরিকান এই কোচ বলেছেন, খেলোয়াড়দের এমন ভুলে তিনি ‘খুবই ক্ষুব্ধ’। সোমবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে তার দলকে আগের ভুলের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে হবে। জয় ছাড়া অন্য কোনো ফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ পর্বে আর ভুল করার সুযোগ খুবই কম। আগামী ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়াকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডুলি। কারণ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকে।
রোববার জাকার্তায় অনুশীলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডুলি। সেখানে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল হজমের ধরন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডুলি বলেন, ‘আমরা তাদের কয়েকটি সুযোগ তৈরি করার সুযোগ দিয়েছি এবং তারা আমাদের দেওয়া সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকেই এসব ভুল হয়েছে। এ কারণে আমি খুবই ক্ষুব্ধ।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল খেলোয়াড়দের আগ্রাসন ও মনোযোগের ঘাটতি। বিশেষ করে মাঝমাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় সেখানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডুলি।
রক্ষণভাগেও পরিবর্তন আসছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনটি গোলেই ভুলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শাকিল আহাদ টপুর জায়গায় এবার জিদান ইউসুফকে কেন্দ্রীয় রক্ষণে খেলানোর কথা জানিয়েছেন কোচ। আগের ম্যাচে জিদান দলের অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড় ছিলেন।
ডুলি মনে করেন, প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরিতে বাংলাদেশকে আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি পেছনে ছিলাম। একজন আরেকজনের ওপর চাপ দেওয়ার দায়িত্ব ঠেলে দিচ্ছিল। আমাদের আরও আগ্রাসী হতে হবে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বিপক্ষে এবং বলের দখল নেওয়ার সময় আরও আগ্রাসী হতে হবে। আমাদের সামনে খেলতে হবে।’
বাংলাদেশের খেলার ধরন নিয়েও নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চান তিনি।
ডুলির ভাষায়, ‘আমার পরিকল্পনা হলো নিজেদের দিকে মনোযোগ দেওয়া। আমাদের ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা কীভাবে খেলতে চাই, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষকে বেশি সুযোগ দিলে যেকোনো দলই আমাদের বিপক্ষে খেলতে পারবে এবং আমাদের হারাতে পারবে।’
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের চেয়ে ৩৪ ধাপ এগিয়ে। সর্বশেষ দুটি সাক্ষাতে ২-১ ও ১-০ গোলে জয় পেয়েছে সিঙ্গাপুর।
তবে ওই দুই ম্যাচের ফলকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন ডুলি। তার মতে, দুটি ম্যাচই বাংলাদেশের জেতার সুযোগ ছিল।
‘আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত চার পয়েন্ট চেয়েছিলাম। এখন আর চার পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব,’ বলেন তিনি।
ডুলি আরও বলেন, ‘শেষ দুটি ম্যাচ খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। সিঙ্গাপুর ২-১ ও ১-০ গোলে জিতেছিল। খেলোয়াড়, সমর্থক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, ওই দুটি ম্যাচেও আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল। তাই দুই দলের ব্যবধান খুব বেশি নয়।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতাশাজনক হারের পর এবার খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন চান ডুলি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শুরু থেকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কোচের স্পষ্ট ঘোষণা, ‘আমি খেলোয়াড়দের আগেই বলেছি, আমাদের ভিন্ন মানসিকতা ও ভিন্ন মনোভাব নিয়ে খেলতে হবে। আমি ম্যাচটি জিততে চাই। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’
সোমবারের ম্যাচ তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু গ্রুপ পর্বের আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও। তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় ডুলির দল।