ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিফা থেকে ১ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭:৫৩, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফিফা থেকে ১ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি না করে নিজেদের রিজার্ভ তহবিল থেকে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ২০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে যৌথভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন সংস্থা দুটির প্রধান।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনকে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার করে এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে ৩০ লাখ ডলার করে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানির যুক্তি, ফিফার হাতে থাকা নগদ রিজার্ভ থেকেই এই অর্থ দেওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের কোনো অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রয়োজন হবে না।

দুই সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ বিতরণের পরও ফিফার হাতে ২৬০ কোটি ডলারের নগদ রিজার্ভ থাকবে।

বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় আপত্তি

ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন উয়েফা ও কনকাকাফের প্রধানেরা। ওই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও সেই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে এফএফই পরিকল্পনায় সমর্থনের বিষয়টি শর্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

তবে উয়েফা ও কনকাকাফের নেতারা মনে করছেন, সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে ফিফার বিদ্যমান তহবিলই যথেষ্ট। এ জন্য বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করে নতুন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন দুই কনফেডারেশন প্রধান। তাদের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো, ফিফার আর্থিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো, উন্নয়ন কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগে বাড়তি সহায়তা নিশ্চিত করা।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থ বণ্টনের প্রস্তাব ও সংস্থাটির আর্থিক অবস্থার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ইনফান্তিনিও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে অর্থের পরিমাণ ও বণ্টনপদ্ধতি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ফিফার সদস্য দেশগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক নীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন