এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:২৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬
বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সংগৃহীত
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ২৮টি শট নেয় তারা, যার ১৬টিই ছিল লক্ষ্যে। লাউতারো মার্তিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করেন। একটি গোল আসে আত্মঘাতী থেকে।
অবশ্য ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। আর্জেন্টিনায় যাওয়ার জন্য বুরকিনা ফাসোর নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। নতুন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হলেও জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাতে যেতে রাজি হননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ আমীর আব্দৌ অ-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করেন। জাতীয় দলের মূল স্কোয়াড থেকে ছিলেন কেবল চেক বাবেল। ম্যাচ শুরুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় দলটি। বিমানবন্দর থেকেই সরঞ্জাম পাঠানো হয় মাঠে। সামান্য বিশ্রাম নিয়েই খেলতে নামতে হয় ফুটবলারদের।
বড় দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার ঘাটতি, হঠাৎ করে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি, সব মিলিয়ে শুরু থেকেই বেশ চাপে ছিল বুরকিনা ফাসো।
সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সময় নেয়নি আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন লাউতারো মার্তিনেজ। তবে ফিরতি বল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এর ছয় মিনিট পর আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
১২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। লাউতারোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল আদান-প্রদান করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন তিনি।
৩৪ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন নিকো পাজ। ম্যাক অ্যালিস্টারের বাড়ানো চমৎকার থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।
দুই মিনিট পরই আর্জেন্টিনার পঞ্চম গোল। প্রেস্তিয়ানির পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ। ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে পাঁচ খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন স্কালোনি। মাঠে নামেন বালেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ও মাতিয়াস সুলে। উঠে যান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, আলভারেজ, প্রেস্তিয়ানি ও নিকো পাজ।
৫৬ মিনিটের দিকে ষষ্ঠ গোল পায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের পাস পেয়ে গোলরক্ষক বেরিয়ে আসার আগেই বল জালে পাঠান ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ফিওরেন্তিনার এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।
এরপর আরও কয়েক দফায় বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামান স্কালোনি। নিকো গনসালেজ, জুলিয়ানো সিমিওনে, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভ্যালেন্তিন বার্কোও খেলার সুযোগ পান। একপর্যায়ে এনজো ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজকে তুলে নেওয়া হয়। শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পরিবর্তে মাঠে নামেন হেরোনিমো রুল্লি।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সপ্তম গোল। দারুণ একটি ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
শেষ পর্যন্ত ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডাররাও গোলের খাতায় নাম লেখানোয় আক্রমণভাগের বৈচিত্র্যও স্পষ্ট হয়েছে।
বলিভিয়ার বিপক্ষে চার গোলের পর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে সাত গোল, প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও টানা দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন গোলবন্যা বিশ্বকাপের ফাইনালে গোলহীন থাকার হতাশাকে কিছুটা হলেও মুছে দেওয়ার উপলক্ষ তৈরি করেছে।