এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:০১, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৮:২৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মেসির বিদায়কে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। ম্যাচ শুরুর আগেই আবেগে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন মেসি ও তার সতীর্থরা।
বেনিনের বিপক্ষে এটি ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির রেকর্ড ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ম্যাচের ১০ মিনিটে তার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলা এক মিনিটের জন্য থামানো হয়। পুরো স্টেডিয়াম তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। পরে নিকো পাজ ব্যবধান বাড়ান। আর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের বিদায়ী ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন মেসি। এটি ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ১২৬তম গোল।
ম্যাচের আগে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মেসি। গ্যালারি থেকে তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। মাঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সির ওপর ‘Gracias’ অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ’ লেখা একটি বিশাল আর্জেন্টিনার জার্সিও প্রদর্শন করা হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণ সেনা ফাবিও সান্তানা তার পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় ‘দ্য মালভিনাস আর আর্জেন্টাইন’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শিত হয়।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোয়ের মাধ্যমে মেসির ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। একই সঙ্গে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য জানানো হয় শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
মেসির বিদায় এমন এক সময়ে হলো, যখন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারিয়েছে। ওই ম্যাচের পর মেসি বলেছিলেন, তিনি নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছেন এবং জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার সময় এসেছে।
বিদায়ী ম্যাচের আগে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। নিজের পড়াশোনা আরও এগিয়ে নিতে না পারার আক্ষেপের কথা অতীতে বললেও এ সম্মাননায় গর্ব প্রকাশ করেন মেসি।
মেসির বিদায়কে ঘিরে আবেগ প্রকাশ করেছেন তার সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ নেইমারও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছেন তার জন্য পুরো বিশ্বই তাকে ধন্যবাদ জানায়।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলো বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার একাধিক শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তার নেতৃত্বে ২০২২ বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে দলটি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও ক্লাব ফুটবলে এখনো মেসির অধ্যায় শেষ হয়নি। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। তবে বাবার মৃত্যুর পর ফুটবল থেকে প্রত্যাশার চেয়ে আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি তাই শুধু একটি জয় নয়, হয়ে থাকল একটি যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। যে অধ্যায়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য রেকর্ড আর কোটি মানুষের ভালোবাসায় নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।