ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:২২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত

আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্বাধীন কমিশন; রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে ক্লাবটি। সংগৃহীত

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় নয় বছর ধরে ক্লাবটি বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং ব্যয় কম দেখানোর ব্যবস্থা করেছিল বলে কমিশনের রায়ে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।

কমিশনের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে এমন চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে তারা নির্ধারিত স্পনসরশিপ অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করত। বাকি অর্থ দেওয়া হতো ক্লাবটির মালিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এডিইউজি) মাধ্যমে।

এ ছাড়া এডিইউজির অর্থায়নে আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সিটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয় কম দেখানো সম্ভব হয়। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সময়ে ক্লাবটির আয় ও ব্যয় মিলিয়ে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থের হিসাব কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে কমিশন জানিয়েছে।

এর ফলে প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার আর্থিক স্থিতিশীলতার বিধি অনুযায়ী সিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। কমিশনের মতে, প্রকৃত আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করা হলে ক্লাবটি ‘অনেক বড় ব্যবধানে’ ব্যয়সংক্রান্ত সীমা লঙ্ঘন করত।

তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেও সিটির বিরুদ্ধে বেশিরভাগ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। চার বছর ধরে চলা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত ও বিলম্বিত করতে ক্লাবটি ‘সমন্বিত প্রচেষ্টা’ চালিয়েছিল বলেও কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স এক বিবৃতিতে বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্তে ওই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে কী ঘটেছিল, তার মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে ক্লাবটি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এখন সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ দ্রুত শেষ করে লিগ, ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করার কথা জানান মাস্টার্স।

আপিল করবে ম্যানচেস্টার সিটি

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত। ক্লাবটির দাবি, কমিশনের মতামতে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে এবং সে কারণে সিদ্ধান্তটি নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য নয়।

এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, রায়ের বিরুদ্ধে তাদের জন্য উন্মুক্ত সব ধরনের আপিলের সুযোগ তারা ব্যবহার করবে এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।

২০০৮ সালে শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মালিকানায় যাওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলে অন্যতম সফল ক্লাবে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ বছরে তারা আটবার প্রিমিয়ার লিগ, চারবার এফএ কাপ ও সাতবার লিগ কাপ জিতেছে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগও জয় করে ক্লাবটি।

তবে ২০২৩ সালেই আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সিটির বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ। এ বিষয়ে স্বাধীন কমিশনের শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এবং তিন মাস পর শেষ হয়।

প্রিমিয়ার লিগের বিধি অনুযায়ী, প্রমাণিত আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে পয়েন্ট কেটে নেওয়া, জরিমানা কিংবা লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তি হতে পারে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে একক আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় এভারটন ও নটিংহাম ফরেস্টকে পয়েন্ট কর্তনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

সিটির ক্ষেত্রে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ক্লাবটি আপিল করার ঘোষণা দেওয়ায় পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন