ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:০৪, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

মোস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারে ৪১ রান দেওয়ার পর পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সংগৃহীত

নাগোয়ার আকাশে তখন মিষ্টি রোদ। করোগি অ্যাথলেটিক পার্কের গ্যালারির বড় অংশজুড়ে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লিটন কুমার দাস, মোস্তাফিজুর রহমানদের উৎসাহ দিতে মুহুর্মুহু উঠছিল ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। কিন্তু মাঠের বাইরের সেই উচ্ছ্বাস ছড়াতে পারেনি বাইশ গজে।

তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে ১৩ ওভারে ১১১ রান করেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। বল হাতে দলের অন্যতম ভরসা মোস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আবদুস সামাদ ও হাসান নওয়াজ তার দুই ওভার থেকে তুলে নেন ৪১ রান।

বৃহস্পতিবার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। আগামীকাল ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভারত অথবা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

পাকিস্তানের দলটি তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হলেও সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহানের মতো ব্যাটার ছিলেন তাদের ভরসা। অন্যদিকে তারকাসমৃদ্ধ পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ।

ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। ফলে ওভার কমিয়ে ১৩-তে নামানো হয়। উইকেটের অবস্থা বিবেচনায় টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান।

তানজিদ হাসান তামিম শুরুতেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। আরাফাত মিনহাসের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকানোর পর পঞ্চম বলেই বিদায় নেন তিনি। সাহিবজাদা ফারহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ।

এরপর সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন লিটন কুমার দাস। পরিষ্কার বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

স্পিনাররা উইকেট থেকে যথেষ্ট টার্ন পাচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল হিসাব করে ব্যাটিং করা। কিন্তু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। পারভেজ হোসেন ইমনও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। আরাফাত মিনহাসকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

পাওয়ার প্লের চার ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৭ রান করে বাংলাদেশ। ভালো খেলছিলেন সাইফ হাসান। দুটি ছক্কাও হাঁকান তিনি। তবে সুফিয়ান মুকিমের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ১৭ বলে ১৯ রান করে ফেরেন সাইফ।

এরপর দলের রানের চাকা সচল রাখেন তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও চারটি ছক্কা। সুফিয়ানের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই অবশ্য থামতে হয় তাকে।

অন্য প্রান্তে মোসাদ্দেক ছিলেন ধীরগতির। ১৬ বলে ১১ রান করে ফেরেন তিনি। শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রত্যাশিত গতি তুলতে না পারায় ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রানেই থামে ইনিংস।

জবাবে বোলিংবান্ধব উইকেটে ভালো শুরু করে বাংলাদেশের স্পিনাররা। শেখ মেহেদীর বলে বিপজ্জনক সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে নাসুম আহমেদের শিকার হন ঝোড়ো শুরু করা মাজ সাদাকাত। ৭ বলে ১৫ রান করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান সাইম আইয়ুব। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান তিনি। শেষ বলে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আইয়ুব। ১২ বলে ২১ রান করেন পাকিস্তানের এই ব্যাটার। ওই ওভার থেকে ১৮ রান দেন মোস্তাফিজ।

৫৩ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে তখন ম্যাচে ফেরাতে লড়ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে হাসান নওয়াজ ও আবদুস সামাদের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দুজনই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। বিশেষ করে সামাদকে থামাতে পারেনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। স্পিনার কিংবা পেসার, কারও বিপক্ষেই তারা স্বচ্ছন্দ হারাননি।

বাংলাদেশের আশা ছিল মোস্তাফিজের দিকে। কিন্তু ইনিংসের দশম ওভারে তিনি খরচ করেন ২৩ রান। ওই ওভারেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ২ ওভারে এক উইকেট নিলেও মোস্তাফিজ দেন ৪১ রান।

শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আবদুস সামাদ ৩০ এবং হাসান নওয়াজ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট নেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন