আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:১৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:৪৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির মোম্বাসা হাইকোর্ট এ রায় দেন। অভিযুক্তরা অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, অনাহারে থেকে মৃত্যুবরণ করলে তারা পৃথিবীর শেষ সময়ের আগে স্বর্গে যেতে পারবেন। এ উদ্দেশ্যে শিশুদেরও খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগপক্ষ আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে।
ম্যাকেঞ্জি গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের প্রতিষ্ঠাতা। তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা প্রকাশ পায় ২০২৩ সালে, যখন দক্ষিণ-পূর্ব কেনিয়ার শাকাহোলা বনের অগভীর কবর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার শুরু হয়। পরে ওই এলাকায় ৪০০-এর বেশি মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সোমবারের রায়টি ১৯১ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে।
বিচারক ডায়ানা কাভেদজা মোচাচে দীর্ঘ শুনানি শেষে বলেন, অভিযুক্তরা সম্মিলিতভাবে এমন একটি ব্যবস্থা চালু ও বজায় রেখেছিলেন, যার ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যু ঘটে। আদালতে উঠে আসে, কিছু শিশুকে আলাদা করে রেখে খাবার দেওয়া হয়নি, আর তাদের বাবা-মাকে সেই পরিস্থিতির সাক্ষী হতে হয়েছিল।
ম্যাকেঞ্জি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। তবে আদালত তার এ বক্তব্য গ্রহণ করেননি। মামলার অন্য অভিযুক্তরাও অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
শাকাহোলা বনের ঘটনায় কেনিয়ার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও কীভাবে তিনি দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে তার গির্জা বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে তিনি অনুসারীদের নিয়ে শাকাহোলা বনে কার্যক্রম চালান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় দেশটিতে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো আগেই স্বীকার করেছিলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর এই বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হওয়া উচিত ছিল।
ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদসহ আরও কয়েকটি মামলাও রয়েছে। শাকাহোলা বনের বাইরে অন্য একটি এলাকায় আরও ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ওই মামলাগুলোর বিচার এখনো শেষ হয়নি।
ম্যাকেঞ্জি ও তার সহযোগীদের সাজা আগামী ৬ নভেম্বর ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা