ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৩৪, ৩০ আগস্ট ২০২৬

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’-এর মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয় ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ‘পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুম ও অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময়ের এসব গোপন বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে বলা হয়, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবে না।

তারেক রহমান বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় বা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও এতে থমকে যায়। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তির অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদের জন্য অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন