এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৫৮, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২৯, ১ অক্টোবর ২০২৬
মিরপুরের শাহ আলীতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংগৃহীত
বুধবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার সাংগঠনিক থানাগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির আওতাধীন।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হকের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে সাইফুল আলম নিরবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
সিসিটিভি ফুটেজে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে ভাঙচুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
এ ছাড়া অনৈতিক কার্যকলাপ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্রকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্যসচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সময় সাজ্জাদুল মিরাজ তা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি তৎকালীন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মিরপুর জোনের উপকমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। ভাঙচুরের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানার ওসির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছিলেন।
এদিকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদলের নেতা সাজ্জাদুর রহমান মিশু, মো. সোহল, কবির হোসেন ও আকবর হোসেনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর মো. রবিন খানকে সভাপতি ও আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বৃহত্তর মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের ১১টি থানা এই কমিটির আওতাধীন।
মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজনকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে বৃহত্তর মিরপুরের দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শীর্ষ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক ওসমান গণি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার এবং সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি বিলুপ্ত এবং নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।