ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন

পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭:০৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান

সংগৃহীত

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করার পর পুলিশকে খবর দেন তিনি। এ সময় তার হাতে থাকা অস্ত্রের বৈধতা ও এভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। ভিডিওতে দেখা যায়, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন বস্তিতে গাড়ি থেকে নেমে লোকজনকে ধাওয়া করতে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। পাশে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় এক দেহরক্ষীকে একজনকে লাথি মারতে দেখা যায়।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কি না, জানতে চাইলে তার এপিএস আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ইশরাক হোসেন পিস্তল নয়, লাঠি নিয়ে অভিযানে গিয়েছিলেন।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে চলাচল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বৈধ লাইসেন্স থাকলেও এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যায় কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আইনজীবীদের মতে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগে নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত। মাঠপর্যায়ে সরাসরি অভিযান চালানো বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা তাদের নেই। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহারসংক্রান্ত নীতিমালায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানির উদ্দেশ্যে বৈধ অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫-এর ২৫(ক) ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করা যায়। অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারায় লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, আইন অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। তার নিরাপত্তায় পুলিশ থাকার কথা, ফলে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তার পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

‘মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, ছাড় নয়’

ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে অভিযান শেষে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা এলাকায় মাদক বিক্রি করে, তাদের ঢাকা-৬ আসনে থাকার সুযোগ নেই। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও চান।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন