ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

হাসনাত আব্দুল্লাহ

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬:৪৬, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৬:৪৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত

সংগৃহীত

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। তার দাবি, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতার কিছু ঘটনা রাজনৈতিক স্বার্থে ঘটানো হতো এবং সেগুলোর দায় অন্য পক্ষের ওপর চাপানো হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া তার দাবির পক্ষে প্রমাণ।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন প্রচার চালাত যে তাদের অনুপস্থিতিতে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশ চরমপন্থার দিকে এগিয়ে যাবে। এ অবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য একদিকে জঙ্গিবাদের নাটক সাজানো হতো, অন্যদিকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে অন্য পক্ষকে দায়ী করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি এবং সংখ্যালঘুদের একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হতো।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাজানো নাশকতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া গত তিন বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতিফলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অর্জন।

দেশের অপরাধ ও অস্থিরতাকে কেবল সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিরোধিতা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের মতো অপরাধের পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করে। এসব অপরাধের শিকার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ ও ক্ষমতাহীন মানুষ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বেছে নিয়ে কিংবা কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের যথাযথ বিচার করার মাধ্যমেই সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব। বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশের অর্জন রক্ষায়ও তিনি আহ্বান জানান।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন