এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:১৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, লিকারজাতীয় পণ্য মজুত এবং শুল্ক-কর ফাঁকির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা প্রতিরোধে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চারটি দল বিভিন্ন বারে সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়।
ফু ওয়াং বোওলিংয়ে ২৩০ পিস লিকার
অভিযানের একটি দল গুলশানের ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালায়। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেখাতে পারেনি।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আটক করা হয়।
এ ছাড়া সেখানে ‘জিনশেং’ নামের একটি পণ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য এবং ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ নেই। এ পণ্যেরও কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযানে প্রায় এক কেজি জাফরানও পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি উচ্চ শুল্কযুক্ত মূল্যবান পণ্য। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্গারিটা লাউঞ্জে ৬০৮ লিটার মদ
গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বলে জানান কর্মকর্তারা। পাওয়া মদ জব্দ করা হয়েছে।
হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালের বার নিয়েও প্রশ্ন
তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ জানান, হোটেলটির বারটি হোটেলের নামে লাইসেন্স করা নয়। এটি ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা এ-সংক্রান্ত কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।
‘ব্যক্তি নয়, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান’
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে অভিযানটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে চালানো হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, এনবিআরের অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুখ্য বিষয় নয়। নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এনবিআরের কাছে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুখ্য বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে এর আগেও রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযান
এনবিআর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগও ছিল।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানের জন্য সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে। দলগুলোর সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।