ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

এক মাসে স্বর্ণের দাম উঠেছে-নেমেছে, শেষ দিনে বড় পতন

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৪০, ২৯ আগস্ট ২০২৬

এক মাসে স্বর্ণের দাম উঠেছে-নেমেছে, শেষ দিনে বড় পতন

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে গত এক মাসে দেখা গেছে বড় ধরনের ওঠানামা। কখনো কয়েক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে, আবার কয়েক দফায় কমানোও হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক লাফে ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দাম শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তবে বড় পতন হলেও এক মাসের হিসাব করলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ৩০ জুলাই তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় বাজুস ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়েছিল।

এরপর আগস্টে চিত্র পাল্টে যায়। কয়েক দফায় দাম বাড়িয়ে মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বর্ণের দর ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকায় ওঠে। ১৪ আগস্টের আগে টানা কয়েক দফা বাড়ার পর ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা করা হয়েছিল। পরদিনই আবার ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা করা হয়।

এরপর মাসের শেষ সপ্তাহে স্বর্ণের দাম আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২২ আগস্ট ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা করা হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকায় নেওয়া হয়। ফলে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত এ দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে।

কিন্তু মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। ফলে শনিবার বাজুস ভরিতে ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা।

এক মাসে মোট কতটা বাড়ল?

জুলাইয়ের শেষ দিকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা। সর্বশেষ ২৯ আগস্টের দর ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা, যা প্রায় ৯ শতাংশ।

অবশ্য এর মাঝেই স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকায় উঠেছিল। সেই জায়গা থেকে শনিবারের নতুন দরে কমেছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

কেন কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে স্বর্ণের দাম?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বড় ভূমিকা রাখে। বাজুসের সাম্প্রতিক প্রায় প্রতিটি মূল্য সমন্বয়ের বিজ্ঞপ্তিতেই স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পেছনে আবার আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রভাব রয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও সাধারণত তার প্রভাব পড়ে। আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়েছিল। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি এবং ডলারের গতিপথ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছিল।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে আকর্ষণীয় করে তোলে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার প্রত্যাশা এবং দুর্বল ডলারও স্বর্ণের দামকে সমর্থন করেছে। আগস্টের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের আশপাশে উঠেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তবে আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের পর বাজারে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়। এতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয় এবং স্বর্ণের মতো সুদ না-দেওয়া সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হয়। ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি পড়ে যায়।

সামনে কী হতে পারে?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এখনো ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, ডলারের শক্তি, মূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারেও বাজুসের মাধ্যমে দাম বাড়তে পারে। বিপরীতে বিশ্ববাজারে বড় পতন হলে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থাৎ, গত এক মাসের হিসাব বলছে স্বর্ণের বাজার এখন বেশ অস্থির। জুলাইয়ের শেষ দিকে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহে দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকায় উঠেছিল। পরে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তা ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে আগামী দিনগুলোতেও ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন