ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:২৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩০, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের এ নির্দেশের ফলে ইসলামী ব্যাংকের বড় অংশের শেয়ার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

আবেদনকারীর আইনজীবী শিশির মনির জানান, আদালতের আদেশের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে।

৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪ কোম্পানির নামে

হাইকোর্টে করা আবেদনে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী কোনো একই গ্রুপ বা পরিবারের হাতে একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকার সুযোগ নেই। ব্যাংকের মালিকানা যাতে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত না হয়, সে জন্যই এ ধরনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হয়ে মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।

এ অবস্থায় এসব কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ব্যাংকের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে করা আবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলো ফ্রিজ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আগেও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এর আগেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল হাইকোর্ট। গত বছর ব্যাংকটির এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও কয়েকজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সেই আদেশের পর এবার সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানির নামে থাকা ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। ফলে ব্যাংকটির মালিকানা কাঠামো নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের এ আদেশকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার মালিকানার বিষয়টি

একটি ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো ব্যাংকটির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যদি একটি ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অংশের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে পরিচালনা পর্ষদে তাদের প্রভাব, ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে ব্যাংকিং খাতে শেয়ার মালিকানার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির পেছনে প্রকৃত মালিক বা নিয়ন্ত্রক ব্যক্তি কারা, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলে সেসব প্রতিষ্ঠানকে আলাদা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানির নামে ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার থাকার বিষয়টি আদালতের আবেদনে উঠে আসায় মালিকানা কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

শেয়ার ফ্রিজ হলে কী হবে

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শেয়ার ফ্রিজ করার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলো নিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের লেনদেন, হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা। ফলে এসব শেয়ার ইচ্ছামতো হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে লেনদেন করার সুযোগ সীমিত থাকবে।

তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপের ওপর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।

বিনিয়োগকারীদের ওপরও নজর

ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক এবং এর শেয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়। ফলে ব্যাংকটির বিপুল পরিমাণ শেয়ার নিয়ে আদালতের নির্দেশ বিনিয়োগকারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

বড় কোনো শেয়ারহোল্ডারের মালিকানাধীন শেয়ার ফ্রিজ হলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানা কাঠামো ও শেয়ারবাজারের কার্যক্রমেও পড়তে পারে। তবে আদালতের আদেশের প্রকৃত আর্থিক ও বাজারগত প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের ওপর।

সামনে কী হতে পারে

হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের পর এখন সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানির শেয়ার মালিকানা, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকের ওপর তাদের প্রভাবের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশেষ করে এসব কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা কার হাতে, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী এবং ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এসব প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নামে থাকা ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনানুগ মালিকানা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এ আদেশকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।

আরও পড়ুন