বাসস
প্রকাশ: ২১:৫৭, ১৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:০০, ১৭ জুলাই ২০২৬
গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড (জিএমএ) তৈরি করেছে কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচ জার্সি, ট্রেনিং কিট ও বিভিন্ন স্পোর্টস অ্যাপারেল। এর মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গত দুই দশকে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার ও পারফরম্যান্স অ্যাপারেল উৎপাদনেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বলেন, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া দেশের শিল্পখাতের জন্য গর্বের বিষয়। এটি শুধু রপ্তানি আয়ই বাড়াবে না, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমানে অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন ও ক্যাপেলি স্পোর্টসসহ বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দল, পেশাদার ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য জার্সি, শর্টস, জ্যাকেট ও ট্রেনিং পোশাক তৈরি হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য এসেছে একটি বিশেষ স্বীকৃতি। নিউইয়র্কভিত্তিক ক্যাপেলি স্পোর্টস-এর জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের স্পোর্টস অ্যাপারেল শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার বড় স্বীকৃতি। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া দেশের জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা, পেশাদার ক্রীড়ার বিস্তার এবং অ্যাথলেজার পোশাকের জনপ্রিয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উৎপাদন চাহিদা বাড়ছে। দক্ষ শ্রমশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মানের কারখানার কারণে বাংলাদেশ এ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং দক্ষ মানবসম্পদের কারণে উচ্চমূল্যের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনেও দেশের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। এটি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।