এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৩৮, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে ইন্টার মিলানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় এটি ছিল তাঁর ৯৯তম ম্যাচে ৭১তম গোল।
এই গোলের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসের পাশে বসেছেন এমবাপ্পে। রাউল ১৪২ ম্যাচে ৭১ গোল করেছিলেন। অর্থাৎ রাউলের চেয়ে ৪৩ ম্যাচ কম খেলেই সমানসংখ্যক গোলের মালিক হলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের সামনে এখন রয়েছেন মাত্র চারজন। তালিকায় শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—১৪০ গোল। দ্বিতীয় স্থানে লিওনেল মেসি ১২৯ গোল নিয়ে। রবার্ট লেভানডভস্কির গোল ১০৯টি এবং করিম বেনজেমার ৯০টি।
প্রথম দুই শটেই দুই গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম শটেই গোল পাওয়ার পর ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় শটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা।
ইন্টারের স্প্যানিশ গোলরক্ষক হোসে মার্তিনেজের ভুলে গোলটি পায় রিয়াল। বেনজামিন পাভারের ব্যাক পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন মার্তিনেজ। সুযোগ বুঝে রিয়ালের অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দে তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সহজেই জালে পাঠান।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয় ইন্টার। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্তও করতে শুরু করেন মার্তিনেজ। এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যামের দুটি বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। এর মধ্যে একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় স্বস্তি পায় ইন্টার।
সুযোগ পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি রিয়াল
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্টারও বেশ কিছু ভালো আক্রমণ তৈরি করেছিল। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। হাকান চালহানোলু ও লাউতারো মার্তিনেজের শট ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।
এ ছাড়া ইন্টারের আক্রমণভাগ থেকে আসা একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা জন স্টোনসকেও মাঠে নামায় ইন্টার।
দুই দলই ম্যাচে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। রেকর্ড ১৫ বার ইউরোপসেরা হওয়া রিয়াল মাদ্রিদ ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বেলিংহ্যাম।
এরপর ৭৭ মিনিটে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ইন্টারের কার্লোস অগুস্তো। ব্যবধান ২–১ হওয়ায় শেষ দিকে রিয়ালের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে ইতালিয়ান দলটি।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২–১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আর ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতায় নতুন মাইলফলক যোগ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এমবাপ্পে।