এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:১১, ২০ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এদিন মিরপুরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি। সেখানেই বিপিএল নিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
তামিম বলেন, এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজন থেকে বিসিবি সরে আসছে না। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা নতুন একটি ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার কীভাবে সাজাচ্ছি। এবারের পরিকল্পনাটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন না করার কথা বলে আসছিলেন তামিম। এবারও সেই অবস্থানেই অনড় থাকলেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আর্থিক ক্ষতি বহন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিপিএলের বর্তমান সংকটের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনিয়ম ও আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিসিবি সভাপতি। তামিম জানান, রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অন্য দলগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম ও নীতিমালা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজশাহী তাদের পেমেন্ট পরিশোধ করলেও তাদের ক্ষেত্রেও শতভাগ নিয়ম ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না।
বিপিএলের আর্থিক কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তামিম। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পরিচালনা করতে গিয়ে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
তামিম বলেন, কোনো দল হঠাৎ টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেলে কিংবা নিয়ম না মানলে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। অথচ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। তাই কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান না করে শুধু লোকসান গুনে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যেতে চান না তিনি।
তবে বিপিএল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন বার্তা দিতে চাননি বিসিবি সভাপতি। বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কাঠামোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তামিম বলেন, বিপিএল আয়োজনের ইচ্ছা বিসিবির ‘এক হাজার শতাংশ’ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়ো করে আয়োজনের বদলে প্রয়োজন হলে ছয় মাস কিংবা ১২ মাস সময় নিয়েও কাজটি সঠিকভাবে করতে চান তিনি। এরই মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ম ভেঙেছে কিংবা আর্থিকভাবে খেলাপি হয়েছে, তাদের বিষয়গুলো আগে সমাধান করা হবে। এরপরই নতুন কাঠামোয় বিপিএল আয়োজনের পথে এগোবে বিসিবি।
এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে এবং ২০২১ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার তৃতীয়বারের মতো নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট না হওয়ার তালিকায় যুক্ত হলো ২০২৬ সাল। তবে বিসিবির দাবি, এটি বিপিএল বাতিল নয়; বরং পুরোনো কাঠামো ভেঙে আরও কার্যকর ও টেকসই একটি নতুন কাঠামো তৈরির প্রস্তুতি।