ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত

আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফেরার আহ্বান পোশাক মালিকদের

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:২৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০০:২৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফেরার আহ্বান পোশাক মালিকদের

সংগৃহীত

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ স্থগিত করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন মালিকরা। নতুন মজুরি বোর্ড ন্যূনতম মজুরি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা এ আহ্বান জানান। তাদের মতে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পকারখানার আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) বর্তমান প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

ফজলুল হক বলেন, আগে প্রতি পাঁচ বছর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান ছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালে গঠিত মজুরি বোর্ড টানা পাঁচ বছর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার মজুরি পর্যালোচনার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। ওই সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষ মেনে নিয়েছিল বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, তিন বছরের নির্ধারিত সময় আগামী জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। তাই মিছিল বা বিক্ষোভের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি মালিকপক্ষ উপলব্ধি করে। তবে শিল্পের সক্ষমতা যাচাই না করে মজুরি বাড়ালে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিরাও আছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান অসন্তোষের কারণে কতটি কারখানা বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ফজলুল হক। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরির ৮ থেকে ১০ দিন আগে উত্তরা এলাকায় বিচ্ছিন্ন মিছিল থেকে শ্রমিকদের অসন্তোষের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে বিকেএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি এবং অসন্তোষের কারণগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: বাসস

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন